প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ওসি একরামের নেতৃত্বে অভিযানে নুরু বাহিনীর ৩ সদস্য দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
এম মিজানুর রহমান ||
ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর মাদারবাড়ি এলাকায় গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, অটোরিকশাচালককে মারধর করে গাড়ি ছিনতাই এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কথিত কিশোর গ্যাং ‘নুরু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি সহিংস ঘটনার পর নগরজুড়ে অভিযান চালিয়ে ওই বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনিয়ে নেওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানে একটি ধারালো রামদা ও একটি টিপছোরা জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে সদরঘাট থানাধীন পশ্চিম মাদারবাড়ির ১ নম্বর গলির প্রবেশমুখে সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় নুরুর নেতৃত্বাধীন প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের হাতে ছিল কিরিচ, চাপাতি ও টিপছোরাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা। এ সময় ওই পথ দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় চালক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে (২৪) আটকায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর জখমের ভয় দেখিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরও পড়ুন,কালীগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ করলেন এমপি রবিউল বাশারএ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক আহমদ নুর (২০) সদরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর থানায় মামলা নম্বর ১০ রুজু করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০২৪-এর ৪(১) ধারায় দায়ের করা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমদ। প্রথম ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর একই দিন ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে সদরঘাট থানার মোগলটুলি কমার্স কলেজ রোড এলাকায় আরও একটি সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে সৈয়দিয়া ম্যানশনের বিপরীত সড়কে মো. জাহেদ (২৭) নামের এক যুবককে পেয়ে তাঁকে জোরপূর্বক মাহবুব সওদাগরের গলিতে নুর নাহারের একটি পরিত্যক্ত ঘরের কক্ষে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি ও কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো এবং ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় জাহেদের ডান পায়ের পাতা, বাঁ পায়ের গোড়ালি ও ডান হাতের তালুতে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় আহত জাহেদের ভাই ইকবাল হোসেন (৩০) বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় পৃথক মামলা করেন। ১৯ অক্টোবর দায়ের করা মামলা নম্বর ০৯-এ দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই মো. শাহজাহানকে। পরপর দুটি সহিংস ঘটনার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে সদরঘাট থানা পুলিশ। সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)-এর দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল গঠন করা হয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই জমির উদ্দিন, শাহাদাত হোসাইন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহ আলম, ফারুক আহমদ ও মো. শাহজাহানসহ থানার অন্য পুলিশ সদস্যরা। আরও পড়ুন,আজ শেষ হচ্ছে ৩০০ বছরের গুড় পুকুরের মেলা, স্থাপনা সরাতে বাড়তি সময়পরে সিএমপির পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নুরু বাহিনীর সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ধারালো রামদা ও একটি টিপছোরা জব্দ করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সাগর (২৫), মো. শরীফ (২২), মো. সজীব (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এসব মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে দুটি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্যাংপ্রধান হিসেবে অভিযুক্ত নুরু ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদারবাড়ির দুটি ঘটনায় একই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন, সংঘবদ্ধভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি, অটোরিকশা ছিনতাই এবং হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস দমনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত