প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৫ মামলায় ৬০ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা, কারাদণ্ড ৩ জনের
মোঃ ফরিদ হোসেন ||
বাসাইর বাজারে অবৈধ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নুবহা জেনারেল হাসপাতাল ও নাম-ঠিকানাবিহীন কেক উৎপাদনের ঘটনায় জরিমানা কালীগঞ্জ (গাজীপুর), ১৭ অক্টোবর ২০২৬: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার বাসাইর বাজার, জামালপুর এবং ফুলদি ও বক্তারপুর এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মোট পাঁচটি মামলায় সর্বমোট ৬০ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাসাইর বাজারে অবৈধ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আল-আমিন হালদারের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। নাম-ঠিকানাবিহীন কেক উৎপাদনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অভিযান চলাকালে জামালপুর এলাকায় নাম-ঠিকানাবিহীন জন্মদিনের কেক উৎপাদন এবং যথাযথ মোড়ক ব্যবহার না করার বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে আসে।আরও পড়ুন,গোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীর উদ্যোগ ‘বলুন’ পরিচয় গোপন রেখে হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে না পারায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৭ ধারায় একটি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খাদ্যপণ্যের গায়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকা এবং যথাযথ মোড়ক ব্যবহার না করার মতো বিষয় ভোক্তার নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে ব্যবসা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নুবহা জেনারেল হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জামালপুর এলাকায় অবস্থিত নুবহা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হয়। অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও হালনাগাদ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় একটি মামলায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় বলে অভিযানের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনজনের কারাদণ্ড অভিযানের আরেকটি অংশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তিনটি মামলা পরিচালনা করা হয়। এসব মামলায় তিনজনকে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের অপরাধের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাক্রমে ১৫ দিন, তিন মাস এবং দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মামলার নথিতে অভিযুক্ত হিসেবে মো. রাব্বি (২৬), আসিফ (২৩) এবং মো. মোতালিব (২৮)-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, জব্দ করা আলামত এবং দণ্ডের মেয়াদ সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযানের বিবরণ থেকে জানা যায়। বাসাইর বাজারে অবৈধ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বাসাইর বাজারে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান এবং যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. রেজওয়ানা রশীদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা; দেব প্রসাদ মিত্র, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, কালীগঞ্জ, গাজীপুর; এবং মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঞা, পরিদর্শক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, গাজীপুর। আরও পড়ুন,শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা মন্ডপে মন্ডপে উৎসবের আমেজএ সময় বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুল ইসলাম। পাঁচ মামলায় মোট জরিমানা ৬০ হাজার ৩০০ টাকা অভিযানের বিবরণ অনুযায়ী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৭ ও ৫২ ধারায় দায়ের করা দুটি মামলায় যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা, মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তিনটি মামলায় প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে পাঁচটি মামলায় মোট ৬০ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের বিপরীতে ডি.সি.আর. নম্বর ৭২৫৫০৯ থেকে ৭২৫৫১৩ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। মামলাগুলোর নম্বর ২০২-২০৬/২০২৬। আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ, পণ্যের যথাযথ মোড়ক ও পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং প্রচলিত আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। কালীগঞ্জ উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনানুগ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত