প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে এনবিআরের তিন কর্মচারীসহ সাতজন গ্রেপ্তার
সংবাদ দিগন্ত ||
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই সরকারি কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিনজন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন করে কর্মচারী রয়েছেন। গ্রেপ্তার অন্য দুজন চাকরিপ্রত্যাশী।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করেছিল চক্রটি। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজন। তাঁদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র, ব্যাংক চেক, স্ট্যাম্প, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।আরও পড়ুন, বাংলাদেশ-আজারবাইজান সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগত ১০ অক্টোবর সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টার প্রায় এক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বিশ্লেষণ করে প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। ১০ অক্টোবর ভোরে নূর মোহাম্মদ একটি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্রের ছবি পান। পরে জাহাঙ্গীর তাঁকে স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।এসআরবি জানিয়েছে, প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত