প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রতারণা ও বিভিন্ন মামলায় বাসন থানায় পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার
মোঃ ফরিদ হোসেন ||
১৬ অক্টোবর ২০২৬: গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রতারণা মামলা, জিআর মামলার ওয়ারেন্ট এবং জিএমপি অধ্যাদেশের পৃথক মামলায় মোট পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাঁদের গ্রেফতার করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে বাসন থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রতারণা মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামি, জিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামি এবং জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় দুই আসামিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রতারণা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার
প্রতারণা মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে মোঃ আসমত আলী (৪০) ও মমতাজ খানম (৩৪)-কে।
গ্রেফতারকৃত মোঃ আসমত আলী শেরপুর সদর থানার বাগরাকসা গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও মোছাঃ আছিরনের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন ইটাহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
অপর আসামি মমতাজ খানম (৩৪)। তাঁর পিতার নাম মোঃ খাদেমুল ইসলাম খান এবং মাতার নাম মোছাঃ মনোয়ারা খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা গাজীপুরের গাছা থানাধীন ছয়দানা এলাকার ভূষির মিল, মেম্বার বাড়ি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণা মামলার এজাহারে নাম থাকায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার
এদিকে জিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মোঃ সেলিম (২১)-কে গ্রেফতার করেছে বাসন থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মোঃ সেলিম ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণ বড়বাগ গ্রামের মোঃ সবুজ মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন তেলীপাড়া এলাকায় দশতলা ভবনের পেছনের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন, আখাউড়ায় ৬০ বছরের বৃদ্ধা ভিক্ষুককে ধর্ষণের অভিযোগমামলার ওয়ারেন্টভুক্ত হওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর ও অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় আরও দুই আসামি গ্রেফতার
বিশেষ অভিযানে জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোঃ মাহিদ বিল্লা (২৬) ও আলামিন (২২)।
গ্রেফতারকৃত মোঃ মাহিদ বিল্লা কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন পঞ্চায়েতপাড়া এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়া ও রুবি বেগমের ছেলে। তাঁর বর্তমান ঠিকানা হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন পোড়াবাড়ী এলাকার উল্লেখ রয়েছে।
অপর আসামি আলামিন (২২)। তাঁর পিতার নাম মোঃ নুরুল ইসলাম এবং মাতার নাম ফেরদৌস বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন নবাবপুর গ্রাম। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন পোড়াবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাঁদের গ্রেফতার করার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
গাজীপুর মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
বাসন থানা পুলিশের এই অভিযানে পৃথক তিন ধরনের মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
তবে অভিযানের সময়, গ্রেফতারের স্থান, সংশ্লিষ্ট মামলা নম্বর এবং অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর মহানগরীতে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত