প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় মোয়াবের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়
সংবাদ দিগন্ত ||
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটিতে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এই বোমা দিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বা মোয়াব বোমা ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মোয়াব যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা। এটি বিশাল এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। তবে ভূগর্ভের অনেক গভীরে অবস্থিত স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য বোমাটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়নি। ফলে ইরানের সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আরও পড়ুন,মদিনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটেরপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও গ্রীষ্মকাল থেকে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। এদিকে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব পরিস্থিতি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।মোয়াব বোমার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন সামরিক তৎপরতার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে মন্তব্য চেয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের অবস্থান লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো মোয়াব বোমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সে সময় সুড়ঙ্গ ও বাংকারের জটিল নেটওয়ার্কে হামলায় ৯০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরানে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত