প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
এক বছরে বিদেশি ব্যাংকের আমানত ও মুনাফায় পতন
সংবাদ দিগন্ত ||
বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা কমেছে। এক বছরে এসব ব্যাংকের আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা। একই সময়ে সম্মিলিত মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা, যা প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত, ঋণ, বিনিয়োগ ও মুনাফাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা। অন্যদিকে, গত জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা। আরোও পড়ুন,বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্রের সময় বাড়ল ৪ মাসতবে আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশে বর্তমানে নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ছয়টি উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ রয়েছে কম সুদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে। গত জুন শেষে এ ধরনের হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। বিদেশি মুদ্রায় খোলা হিসাবে আমানত ছিল ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। আর মেয়াদি বা স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। তবে আমানত ও মুনাফা কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সামান্য বেড়েছে। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের বড় অংশ গেছে শিল্প খাতে। গত জুন শেষে এ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। বিপরীতে পরিবহন খাতে ঋণ ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা এবং নির্মাণ খাতে ৪২৮ কোটি টাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত