প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
তিন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংবাদ দিগন্ত ||
প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে সংগ্রাম, বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। কেউ বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, কেউ দুই হাত না থাকলেও প্রতিষ্ঠা করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবার কেউ নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে লাগিয়েছেন হাজার হাজার গাছ। সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এমন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন নায়লা শারাফ, মো. আলতাফ হোসেন ও রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং মানুষের জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’ তিনজনের মধ্যে নায়লা শারাফের পথচলাটি বেশ ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। আরোও পড়ুন,পল্লবীতে ‘ফোর স্টার’ গ্যাংয়ের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার পিস্তল-ইয়াবাপরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। অন্যদিকে, নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। আলতাফ হোসেনের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত