প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাঠে ২ হাজার ৯৩১ কর্মী
জোবায়ের হোসেন ইফতি ||
গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে জেলায় ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে ২ হাজার ৬৬৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ২৬৬ জন সুপারভাইজারসহ মোট ২ হাজার ৯৩১ জন দায়িত্ব পালন করবেন।সোমবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩, ২১, ৪১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের মোট ১০টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে ১০২ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার কাজ করছেন। তাঁদের মাধ্যমে ৯৪ হাজার ৪৩৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য এ তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারিত। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাইয়ে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। আরও পড়ুন,কালীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিতএ পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি আর্থসামাজিক স্তরে ভাগ করে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য নিম্ন আয়ের নারী পরিবারপ্রধানদের উপকারভোগী হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসূচির আওতায় ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তিসংবলিত ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এ কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলন বা ব্যবহার করতে পারবেন।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য সাইবার নিরাপত্তা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।তথ্য সংগ্রহের সময় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদও কাছে রাখতে হবে।জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল এবং শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত