প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
খাবারের প্রলোভনে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণ, ভারতে পাচারের আগেই উদ্ধার
হোসেন মোহাম্মদ ||
গোপালগঞ্জের গোবরা গ্রাম থেকে অপহরণের তিন দিন পর ১২ বছর বয়সী শিশু সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দূরসম্পর্কের আত্মীয় মুন্না শিকদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর শিশুটিকে মুক্তি দিতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর বাসার পাশের একটি দোকান থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাজিমকে ডেকে নেয় মুন্না। পরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে শিশুটির বাবা আকাশ শিকদারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।আরও পড়ুন,গংগাচড়ায় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রায়হান সিরাজীঅভিযোগের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শিশুটিকে প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকায় এবং পরে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং মুন্না শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উদ্ধার হওয়া সাজিম গোবরা গ্রামের আকাশ শিকদারের ছেলে। গ্রেপ্তার মুন্না কোটালীপাড়া উপজেলার কাগডাঙ্গা গ্রামের লালন শিকদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এদিকে, ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল চাইল্ড রিকভারি নেটওয়ার্ক (GCRN)। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিশু অপহরণ ও আন্তদেশীয় পাচারের আশঙ্কা থাকলে শুধু একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। এর সঙ্গে অন্য কেউ বা সংঘবদ্ধ কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি শিশু অপহরণ ও পাচারের ঘটনায় জড়িতদের তথ্য সংরক্ষণে সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান। শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত