প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেট ঘিরে পথচারীদের দুর্ভোগ, সড়কেও দখলের অভিযোগ; চাঁদা আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি
সুমন খান ||
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযান কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেও বিপরীত চিত্র মিরপুর-১ নম্বর এলাকায়। সেখানে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও ফুটপাতজুড়ে বসছে দোকানপাট। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্ছেদের পর এত দ্রুত কারা আবার ফুটপাত দখল করছে, আর এই দখল ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কোথায়?সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১ নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেটের দুই পাশের ফুটপাত ও সংলগ্ন সড়কের কিছু অংশে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছেন হকাররা। পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে অনেক জায়গায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার জায়গা না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামছেন। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সংঘাত তৈরি হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।উচ্ছেদ অভিযান, তারপর আগের চিত্র,স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় এর আগেও একাধিকবার অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। আরও পড়ুন,চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগঅভিযানের সময় ফুটপাত খালি করা হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও দোকান বসতে দেখা যায়। ফলে অভিযান পরিচালনা করেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।নগরবাসীর প্রশ্ন, উচ্ছেদ অভিযান যদি নিয়মিত হয়, তাহলে ফুটপাত পুনর্দখল ঠেকানো যাচ্ছে না কেন? অভিযানের পরপরই নতুন করে দোকান বসানোর সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।তাদের মতে, শুধু একদিন অভিযান চালিয়ে ফুটপাত খালি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি না থাকলে দখলদাররা আবারও ফিরে আসার সুযোগ পায়। তাই অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ফুটপাত পেরিয়ে সড়কেও দখল মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেটের আশপাশে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের অংশ দখল হয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। দোকানের পসরা ও ক্রেতাদের ভিড়ে কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্যস্ত সময়ে এ পরিস্থিতি যানজট আরও বাড়িয়ে তুলছে।অফিসগামী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী পথচারীদের অভিযোগ, ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে গাড়ির পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের। ফুটপাত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও বাস্তবে তাঁরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: তদন্তের দাবি,ফুটপাত ও সড়কের অংশে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে প্রভাবশালী মহল ও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জায়গা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ গুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া না গেলে এগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারপরও উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, ফুটপাত দখল যদি বিচ্ছিন্নভাবে হকারদের উদ্যোগে হয়ে থাকে, তাহলে উচ্ছেদের পর একই জায়গায় দ্রুত দোকানপাট ফিরে আসে কীভাবে? কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে দোকান বসানোর সুযোগ করে দিচ্ছে কি না, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে জায়গা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কি না,এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,গাজীপুরে খাদ্য পরিদর্শক সোহেল আহামেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগএ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগ গ্রহণ, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করার আগে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।সমন্বিত তদারকি ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন,নগর ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং, দ্রুত পুনর্দখল প্রতিরোধ এবং হকার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু অভিযান চালিয়ে চলে গেলে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলের অভিযোগ নিরসনে ডিএনসিসি, ট্রাফিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেটের দুই পাশের ফুটপাত ও সংলগ্ন সড়কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা দরকার।একই সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানের আগে ও পরে পরিস্থিতি নথিভুক্ত করা, পুনর্দখলের সময় ও ধরন পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হলে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সহজ হবে।কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি চান নগরবাসী,স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিরপুর-১ নম্বরের ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল সরিয়ে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনার পরিসংখ্যান নয়, উচ্ছেদের পর ফুটপাত কত দিন দখলমুক্ত থাকছে, সেটিও মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন।ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক ব্যবসার জায়গা নয়; এটি নগরবাসীর চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পুনর্দখলের কারণ অনুসন্ধান, চাঁদা আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।মিরপুর-১০ নম্বরের মতো মিরপুর-১ নম্বরেও অভিযান-পরবর্তী কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে পথচারীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে স্থায়ী সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত