প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
পিচ্চি রাজার পলায়ন রহস্য উদঘাটন টাকার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তার তথ্য
সংবাদ দিগন্ত ||
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে আসামি পিচ্চি রাজা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাননি; বরং পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে জিএমপি সদরদপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এসব তথ্য জানান।পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় পিচ্চি রাজা (৩৪) পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার জিএমপির ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে দেওয়া হয়।তদন্তে বিভিন্ন সাক্ষ্য, আলামত ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলে জানান কমিশনার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত থেকে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় প্রিজনভ্যান থামানো হয়। আরও পড়ুন, আইপিইউর এপিজি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন বাংলাদেশের স্পিকারসেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে নামান।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনের অংশে রাখা হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। পরে আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেওয়া হয়। এরপর কোনাবাড়ী এলাকায় তিনি পালিয়ে গেছেন—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, এসআই প্রবীর কুমার ও নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জিএমপি কমিশনার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত