প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
আখাউড়ায় রেলসেতুর পানিতে ভাসমান যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত
শরিফুল ইসলাম ||
আখাউড়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলসেতুর নিচের পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহতের নাম মিজান মিয়া পাঠান (২৮)। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে আখাউড়া থানাধীন রেলওয়ের ২০৩/৭ কিলোমিটার এলাকার পাশের একটি রেলসেতুর নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।পরে মরদেহের পাশে থাকা একটি ব্যাগ থেকে টাকা, স্মার্টফোন ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। পরিচয়পত্রে ‘মো. মিজান’ নাম এবং কর্মস্থল হিসেবে হা-মীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত হয়।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিজান ঢাকার হা-মীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। গত শুক্রবার রাতে তিনি উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি রেলসেতুর নিচের পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন।আরও পড়ুন, গোপালগঞ্জে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০,৫০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ তবে কীভাবে তিনি পানিতে পড়ে মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মিজান প্রায়ই ট্রেনের ছাদে উঠে ঢাকায় যাতায়াত করতেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর চার মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত মিজানের মরদেহ তাঁর বড় ভাই শাহজাহান পাঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান। এর আগে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের নির্দেশে মরদেহটি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছিল।রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এটি ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।মাত্র ২৮ বছর বয়সে মিজানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ও চার মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত