প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ব্রহ্মগাছা ইউপি নির্বাচনে আলোচনায় সফল ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আব্দুর রাজ্জাক
মো. বাবু ||
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল প্রশাসনিক এলাকা ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান, হাট-বাজার কিংবা গ্রামীণ সামাজিক আড্ডা—সবখানেই এখন মুখ্য আলোচনা, ‘কে হচ্ছেন ব্রহ্মগাছার আগামী অভিভাবক?’ সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় একাধিক নাম উঠে আসলেও বর্তমানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবং টানা তিনবারের সফল ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং নানামুখী জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ঘোষণা অনুযায়ী, হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে এক মুক্ত, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী হতে চান। নিচে রায়গঞ্জের রাজনীতি, সমাজকাঠামো এবং ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের প্রেক্ষাপটে আব্দুর রাজ্জাকের প্রার্থিতা, তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ দর্শনের একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।আরও পড়ুন,সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা: শেখ আমিনুর হোসেনের নিরলস কর্মযাত্রা১. পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজনৈতিক আদর্শ ও সামাজিক ভিত্তি একজন জনপ্রতিনিধির গ্রহণযোগ্যতার পেছনে তাঁর পারিবারিক পটভূমি ও শিক্ষা একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। আব্দুর রাজ্জাক জন্মগ্রহণ করেছেন ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাশুরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত ও ধার্মিক মুসলিম পরিবারে। শিক্ষক বাবার সততা ও মূল্যবোধ: তাঁর বাবা প্রয়াত আব্দুর রহমান ছিলেন একজন সম্মানিত শিক্ষাবিদ। কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখার পর তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পরিবারের ১০ ভাই-বোনের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক চতুর্থ। শৈশব থেকেই শিক্ষক বাবার আদর্শ, শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে, যা পরবর্তীতে তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ইতিবাচক ধারায় চালিত করতে সাহায্য করেছে। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক: সরকারি কর্মকর্তা বা শিক্ষাবিদের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও আব্দুর রাজ্জাক কখনোই সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের প্রান্তিক মানুষের সাথে তাঁর রয়েছে নিবিড় ও আত্মার আত্মিক টান।২. জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বিচারব্যবস্থা আব্দুর রাজ্জাক কোনো হঠাৎ আবির্ভূত প্রার্থী নন; বরং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা এক অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। টানা তিনবার জয়লাভের রেকর্ড: স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক বা সামাজিক যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই এলাকা যাক না কেন, আব্দুর রাজ্জাক জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসায় পর পর ৩ বার ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো পদে দীর্ঘদিন টিকে থাকা এবং বারবার জনগণের ভোট পাওয়া তাঁর নিরবচ্ছিন্ন জনপ্রিয়তার বড় প্রমাণ। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর দায়িত্ব: ইউপি সদস্য হিসেবে তাঁর দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বর্তমানে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর দায়িত্ব পালন করছেন। যা তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কাজ, বাজেট তৈরি ও অবকাঠামো উন্নয়নের সার্বিক প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি অভিজ্ঞ করে তুলেছে। সামাজিক বিরোধ ও শালিস-বিচার: গ্রামাঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর শালিস-সংস্কার ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এলাকার বাল্যবিয়ে রোধ, মাদক নির্মূলের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং ছোটখাটো সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে সর্বজনবিদিত। পক্ষপাতহীন বিচারের কারণে স্থানীয়ভাবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা গড়ে উঠেছে।আরও পড়ুন,কোটালীপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে রাস্তা নির্মাণে বাধা দুর্ভোগে খাগবাড়ীর মানুষ,অভিযোগ সরকারি অর্থ ক্ষতির আশঙ্কা৩. ব্যক্তিগত উদ্যোগে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারি বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করে অনেক সময় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অবকাঠামোগত ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করা একজন প্রার্থীর আলাদা সক্ষমতা নির্দেশ করে। আব্দুর রাজ্জাক বিগত বছরগুলোতে নিজ উদ্যোগে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ বাস্তবায়ন করেছেন: যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: বর্ষাকালে গ্রামের কর্দমাক্ত কাঁচা রাস্তায় চলাচল করা দুষ্কর হয়ে উঠলে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে রাবিশ ও ইট ফেলে সাধারণ মানুষের পথচলা সুগম করেছেন। এছাড়াও ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বেডফিলিংয়ের কাজ সম্পাদন করেছেন, যা ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ নিরসন করেছে। কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসন: কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষিজমির প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় তিনি নিজ উদ্যোগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা স্থানীয় কৃষক সমাজকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা: ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির অভাব মেটাতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিয়মিত অনুদান দিয়ে আসছেন। আত্মকর্মসংস্থান ও মাছ চাষ: কেবল ভৌত অবকাঠামো নয়, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনেও কাজ করেছেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ প্রকল্প চালুর মাধ্যমে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।৪. রাজনৈতিক পরিচয়, ত্যাগ ও সংগ্রাম রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকে আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সক্রিয়, বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে পরিচিত তিনি ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,ও সাবেক আহ্বায়ক ,এর দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে বহুবার জেল জুলুম মামলা ও হামলার মুখোমুখি: আব্দুর রাজ্জাকের সমর্থক ও দলের তৃণমূল কর্মীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বহু রাজনৈতিক প্রচ্ছায়ায় সৃষ্ট বাধা, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। তবে চরম প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি মাঠ ছাড়েননি কিংবা নিজের এলাকা ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ক থেকে বিচ্যুত হননি। প্রতিকূলতায়ও সেবা বজায় রাখা: রাজনীতি ও সামাজিক জীবনের এই কঠিন লড়াই তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে একজন সহনশীল ও অদম্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।৫. প্রার্থীর নির্বাচনি দর্শন: প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি ও রূপকল্প আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আব্দুর রাজ্জাক একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও জনবান্ধব ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর মূল বক্তব্য ও লক্ষ্যসমূহ নিচে সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করা হলো: আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য “আমি প্রতিহিংসা বা কাদা ছোঁড়াছুড়ির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। নির্বাচন হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক উৎসব, যেখানে জনগণ নিরপেক্ষভাবে তাদের অভিভাবক বেছে নেবে। জনগণের মূল্যবান ভোট ও ভালোবাসা নিয়ে আমি নির্বাচিত হতে চাই। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি জানি এই ইউনিয়নের কোথায় কী সমস্যা রয়েছে। ব্রহ্মগাছাকে একটি উন্নত, মাদকমুক্ত, সুশাসনে সমৃদ্ধ এবং আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”৬. নির্বাচনী সমীকরণ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকার সুশীল সমাজের মতে, ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের নির্বাচনে আব্দুর রাজ্জাক একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন মূলত তিনটি শক্তির ওপর ভর করে:১. অভিজ্ঞতা ও মেম্বার হিসেবে ইতিবাচক ট্র্যাক রেকর্ড।২. ব্যক্তিগত অর্থায়নে সামাজিক কাজ ও বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইমেজ।৩. তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ অরাজনৈতিক ভোটারদের মধ্যে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবসময়ই বহুমুখী চ্যালেঞ্জে ভরা থাকে। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের অবস্থান, তরুণ ভোটারদের মনস্তত্ত্ব এবং ভোটের দিনের সার্বিক পরিবেশ—এসব বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে। তবে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, অতীত কর্মের ফিরিস্তি এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক ব্রহ্মগাছার নির্বাচনী মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে ইতিবাচক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এখন দেখার অপেক্ষা, ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ তাঁদের ভবিষ্যৎ আমানত কার হাতে সঁপে দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত