প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে সশস্ত্র হামলা-লুটের অভিযোগ
শেখ আমিনুর হোসেন ||
সাতক্ষীরার দেবহাটায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পোল্ট্রি খামারে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় খামারে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাবার, আইপিএস ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কদমখালি-শশাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. আনছার আলী বিশ্বাস দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে ছইল উদ্দিন গাজী, আবু সুফিয়ান, রাজু আহমেদ, আলফাজ উদ্দিন, আলেয়া বেগম ও মোশাররফ মোল্লার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল পিকআপ নিয়ে খামারে আসে। তাদের কয়েকজনের হাতে দা, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খামারে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাইরে বের হতে বাধা দেওয়া হয়। পরে পিকআপে করে মুরগি, খাবার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় হামলাকারীরা।স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, রাত ১০টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল রেখে ঘেরে যান। রাত আড়াইটার দিকে ফিরে এসে মোটরসাইকেলটি দেখতে পাননি। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক লোকজনকে অস্ত্রশস্ত্রসহ অবস্থান করতে দেখেন বলে দাবি করেন তিনি।আরেক স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, রাতে হৈচৈ শুনে বাইরে এসে রাস্তায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্র হাতে লোকজনকে চলাচল করতে দেখেন। আরও পড়ুন, পর্যটন মৌসুমে রাঙামাটিতে বাড়ছে ভিড়আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।খামার মালিকের ছেলে সবুজ হোসেন বলেন, খামারে ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাবার, আইপিএস ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল ছিল। হামলা ও লুটপাটে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।স্থানীয় মোহাম্মদ জিয়াত আলী বিশ্বাসের দাবি, রাত ৪টার দিকে তার ভাই ফোন করে জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খামারের মালামাল নিয়ে গেছে। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে আটকে রাখা হলেও পুলিশ তাদের আটক না করে চলে যায়। তবে ৯৯৯-এ কলের পর পুলিশ ঠিক কখন ঘটনাস্থলে গেছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান জমির মালিক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, তিনি জমিটি ক্রয় করেছেন এবং আনছার আলী বিশ্বাসকে সেখানে পোল্ট্রি খামার পরিচালনার জন্য লিজ দিয়েছেন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সুফিয়ানের বাবা আসাফুর রহমান বলেন, “অপরাধ যে করবে, তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।”এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হামলা ও লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত