প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৃত্যুর আগের দিনও নির্যাতনের অভিযোগ, পরদিন গৃহবধূর মৃত্যু
গঙ্গাচড়া রংপুর ||
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জ্যোতি আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, জ্যোতিকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের ধর্নার (তীর) সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুরিয়া শরীফ গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে জ্যোতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত জ্যোতি আক্তার ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন মাস্টারের মেয়ে এবং মো. শহিদুল ইসলাম (লেবু মাস্টার)-এর স্ত্রী। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।পরিবারের সদস্যরা জানান, জ্যোতিকে ঘরের ধর্নার (তীর) সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।তবে জ্যোতির পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় জ্যোতিকে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের জেরেই তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।আড়ও পড়ুন,সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা, আটক ৬নিহতের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও আমার বোন ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিল। তার কথাবার্তায় আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ জানতে পারলাম, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’নিহতের চাচি মোহসেনা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জ্যোতির ওপর নির্যাতন করা হতো। সে বিভিন্ন সময় আমাদের ফোন করে নির্যাতনের কথা জানাত। আমরা তাকে বুঝিয়ে বলতাম, তাদের দুটি সন্তান আছে, সময়ের সঙ্গে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এভাবে তার মৃত্যু হবে, তা কখনো ভাবিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’পরিবারের আরেক সদস্য অভিযোগ করেন, জ্যোতিকে নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সবসময় ভয়ের পরিবেশ ছিল। এলাকার লোকজনও সহজে ওই বাড়িতে যেতে পারতেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।এদিকে ঘটনার পর থেকে জ্যোতির স্বামী মো. শহিদুল ইসলামকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পরিবারের করা অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলামের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত