প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিক কাজ শুরু, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ
সংবাদ দিগন্ত ||
উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা, নদীভাঙন ও শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকট মোকাবিলায় আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।তবে সমীক্ষা প্রস্তাবের অনুমোদন ও পরবর্তী প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি নথিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে মূল মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরিকল্পনা কমিশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকা প্রকাশিত থাকলেও সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনার এই নির্দিষ্ট সমীক্ষা প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য সহজে শনাক্ত করা যায়নি।প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় নদীশাসন, তীর সংরক্ষণ, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পানি সংরক্ষণ এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের বন্যা ও নদীভাঙনজনিত দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি কৃষি, সেচ, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং আরও পড়ুন,ইতিহাস গড়লেন ফাতিমা, মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীএবং ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ এবং নদীশাসনের মাধ্যমে নতুন ভূমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।তিস্তা নদী ঘিরে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে নদীর পানি প্রবাহ ও ভাঙনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বর্ষায় বন্যা ও ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ এবং অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে পানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে এসব বিষয় যাচাই করে অর্থনৈতিক ও কারিগরি দিক থেকে প্রকল্পের কার্যকারিতা নির্ধারণ করা হবে।এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২০৩১ মেয়াদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং সংস্কার ও উন্নয়নসংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তথ্যও প্রকাশিত রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল তৈরির কাজ করছে।তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাই প্রথম ধাপ হিসেবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের অর্থায়ন, পরিবেশগত ও কারিগরি মূল্যায়ন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে মূল অবকাঠামো নির্মাণ ও নদী ব্যবস্থাপনার কাজের দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত