প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নদপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য
সংবাদ দিগন্ত ||
দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হতে যাচ্ছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে নদীপথে ঢাকায় পাঠানো হবে নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল।১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশক পর আবারও এই নদীপথে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।ব্রিটিশ আমলে ব্রহ্মপুত্র নদকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নদীপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গেও পণ্য পরিবহন করত। তবে স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে নদীপথনির্ভর সেই বাণিজ্য কমে যায়।নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট টার্মিনালকে প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,দুই মাসে ক্লিন কেয়ার অ্যাপে ১৪৬১ অভিযোগ নিষ্পত্তি ১০২০ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, আধুনিক জেটি ও গুদামঘরের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি নদীপথে নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তার জন্য লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলছে।এপিএলের মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল পরিবহন করা হবে। ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে জাহাজগুলো ঢাকায় পৌঁছাতে আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানান, অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সম্পূর্ণ সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করে তোলে। সংস্কার করা ওই দুই জাহাজই এখন বগীবিল থেকে ঢাকায় মিথানল পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বগীবিল টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও অনেক শিল্পপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।সম্ভাব্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের উৎপাদিত পণ্য, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা। পাশাপাশি আসামের কাজী লেবু বা অসমীয়া লেবু, ভূত জলোকিয়া ও গোলমরিচের মতো জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত কৃষিপণ্যও ভবিষ্যতে এই নদীপথ ব্যবহার করে বিদেশের বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পেতে পারে।নতুন এই বাণিজ্যিক নৌপথ চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং নৌযোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক যোগাযোগও দীর্ঘ বিরতির পর নতুন রূপে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত