প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মণিপুরে ফের জাতিগত সহিংসতা, দুই দিনে নিহত ৭; বাড়ছে কুকি-নাগা উত্তেজনা
সংবাদ দিগন্ত ||
মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে কুকি-জো ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত দুই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার আপার এনকৌ গ্রামের ১৭ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এনকে উইফেনবোকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে।পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে তামেই শহরের দিকে যাওয়ার পথে সশস্ত্র হামলাকারীরা উইফেনবোকে গুলি করে। তার বাবা মাহিনলাকবোউ ছেলের হত্যায় ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে জানতে চান, নির্দোষ ছেলের অপরাধ কী ছিল।এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার লেইসাংফাই গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় দুই নারী নিহত হন। নিহত চোঙ্গা সিটলহৌ ও কিমবোই সিংসন কুকি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। কিমবোই সম্প্রতি নার্সিংয়ের পড়াশোনা শেষ করেছিলেন এবং মাকে কাজে সহায়তা করে ফেরার সময় হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।এদিকে শনিবার সেনাপতি জেলায় একটি হামলায় একই স্থানে থাকা তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা সবাই নাগা সম্প্রদায়ের সদস্য। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় সাত মাসে মণিপুরে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা কুকি-জো ও বিভিন্ন নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উখরুল, সেনাপতি, তামেংলং, কামজং ও নোনি জেলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আড়ও পড়ুন,বেলুচিস্তানে ৯৬ ঘণ্টার অভিযানে ৭১ ‘সন্ত্রাসী’ নিহতের দাবি পাকিস্তানেরজমি ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কুকি ও নাগাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইতিহাসে ১৯৯০-এর দশকেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন।সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য কুকি ও নাগা—উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছে। নাগা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামলার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে কুকি-জো সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এনএসসিএন-আইএমসহ নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় মামলা ও তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। কয়েকটি গুরুতর মামলার তদন্ত ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।এদিকে ভারত সরকার, মণিপুর সরকার ও ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে। তবে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও পারস্পরিক অভিযোগের কারণে রাজ্যের পার্বত্য এলাকাগুলোতে এখনো উত্তেজনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত