প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রেহানা হত্যা: লাশ পুঁতে চারা রোপণ, স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সংবাদ দিগন্ত ||
সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর আশুলিয়ায় সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা আড়াল করতে লাশের ওপর সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলে তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর হাসান খান ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা। ২৯ জুন দেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় পাপিয়ার বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়।আরও পড়ুন, ১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন নিয়োগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী পরে আমজাদ ও কবীর তার পা ও হাত চেপে ধরেন এবং আওলাদ বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে রেহানার মা আইরিন আক্তার নিখোঁজের ঘটনায় অপহরণ মামলা করেন। ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলাটি হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় রূপান্তর করা হয়।মামলার আসামি পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে তদন্তে বলা হয়েছে।হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান বলে অভিযোগ। সম্প্রতি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া ও তদন্ত প্রভাবিত করার জন্য ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি ভুয়া মৃত্যু সনদের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলাও রয়েছে।বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার আসামি আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন। পাপিয়া ও মাকসুদা জামিনে আছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত