প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সয়াবিন তেলে নতুন কারসাজি, বাজারে সংকটের অভিযোগ
সংবাদ দিগন্ত ||
সরকারকে চাপে ফেলে সয়াবিন তেলের দাম আরও এক দফা বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লিটারে আরও ৬ টাকা দাম বাড়ানোর জন্য একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৌশলে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ মিলগেট ও ডিলার পর্যায়ে কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লার দোকানে চাহিদামতো বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্রেতাদের বাড়তি দামে তেল কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজারে ছয়টি মুদি দোকান ঘুরে দেখা যায়, এর মধ্যে চারটি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। জিনজিরা কাঁচাবাজারের আটটি দোকানের মধ্যে তিনটিতে এক লিটারের বোতলজাত তেল এবং দুটি দোকানে দুই লিটারের তেল পাওয়া গেছে। তবে এসব দোকানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ ছিল।জিনজিরা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাগর বলেন, এক ও দুই লিটারের সয়াবিন তেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২০ কার্টন হলেও ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৪ কার্টন। তার দাবি, সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আগের মতো দাম বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, আকাশে মেঘ থাকলেও কমছে বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর থাকলেও খোলা সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে নির্ধারিত দামের তুলনায় যা ১৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ সরকার নতুন করে দাম না বাড়ালেও বাজারে কারসাজির মাধ্যমে ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে।কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের চার থেকে পাঁচটি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তার অভিযোগ, এসব কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ সৃষ্টি করে এবং পরে সরকারকে দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।তিনি বলেন, একই ধরনের পরিস্থিতি গত কয়েক বছরেও তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।এর আগে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের কথা বলে গত ১১ জুলাই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ব্যবসায়ীরা বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দেন। পাঁচ লিটারের বোতলে ১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলে লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত