প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বজনীন পেনশনে আসছে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি, সামনে নানা প্রশ্ন
সংবাদ দিগন্ত ||
বাংলাদেশের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি আলাদা কোনো পঞ্চম স্কিম হিসেবে নয়, বরং প্রতিটি স্কিমের ইসলামিক ভার্সন হিসেবে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকের সামনে প্রচলিত পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালুর পর এখন পর্যন্ত চারটি স্কিমে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। এসব স্কিমে জমা হওয়া প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। চারটি স্কিমের মধ্যে ‘সমতা’য় নিবন্ধনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও ‘সুরক্ষা’, ‘প্রবাস’ ও ‘প্রগতি’ স্কিমে অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম।এ অবস্থায় কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ‘প্রবাস শরিয়াহ’, ‘প্রগতি শরিয়াহ’, ‘সুরক্ষা শরিয়াহ’ ও ‘সমতা শরিয়াহ’—এ ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে বিদ্যমান চারটি স্কিমের মধ্যেই শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প রাখা হবে। অর্থাৎ কোনো গ্রাহক প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবেন, আবার সুদ এড়িয়ে চলতে চাইলে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতিও বেছে নিতে পারবেন।তবে নতুন ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, তার বিনিয়োগ কাঠামো কী হবে এবং শরিয়াহসম্মতভাবে কীভাবে তহবিল পরিচালনা করা হবে—এসব বিষয় এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা কাঠামো, পরিচালন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও কারিগরি দিক নিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।আরও পড়ুন, নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ, বাড়ছে ভোগান্তিশরিয়াহভিত্তিক পেনশন চালুর ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হচ্ছে বিনিয়োগের ক্ষেত্র। প্রচলিত পেনশন তহবিল সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে। শরিয়াহভিত্তিক তহবিলে সুদভিত্তিক বিনিয়োগ এড়িয়ে বিকল্প উপকরণ প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সুকুক, শরিয়াহসম্মত শেয়ার এবং মুদারাবা বা মুশারাকার মতো বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে আলোচনা রয়েছে।অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের বাজার এখনো তুলনামূলক ছোট। ফলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি না হলে তহবিলের মুনাফা প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও হতে পারে। পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা তৈরিতে স্বচ্ছতা, নিয়মিত শরিয়াহ অডিট এবং কার্যকর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মো. আহসান হাবীবের মতে, সর্বজনীন পেনশনে বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনায় পণ্যের বৈচিত্র্য আনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর বিনিয়োগ কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর।এদিকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও কয়েকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী যে সময় পর্যন্ত পেনশন পাবেন, তা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত