প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে মেলা-লটারি নিয়ে বিতর্ক, প্রশাসনের নজরদারি চায় এলাকাবাসী
শফিকুল ইসলাম বাবু ||
গাজীপুরের তালহা-ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প মেলা’র নামে পরিচালিত কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মনে নানামুখী প্রশ্ন ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মেলার পাশাপাশি লটারির টিকিট বিক্রি ও অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় অনুমোদন এবং পরিচালনার আইনি বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মেলার আয়োজন ও লটারি পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র ও আইনি অনুমতি আদৌ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জনসম্মুখে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ অবস্থায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতা এড়াতে বিষয়টি অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের জোরালো দাবি উঠেছে।অনিয়ম ও লটারি কেন্দ্রিক উদ্বেগআরও পড়ুন, ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প মেলা’র ব্যানার বা সাইনবোর্ডে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিদিন ব্যাপকভাবে লটারির টিকিট বিক্রি ও পুরস্কার হস্তান্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনো মেলা বা বিনোদনমূলক ইভেন্টে লটারির নামে সর্বসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালু থাকলে দেশের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক বিধি-বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।কিন্তু উক্ত আয়োজনে সেই আইনি অনুসরণ নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন জেগেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রকার দৃশ্যমান প্রশাসনিক অনুমোদনপত্র বা স্মারক নম্বর ছাড়াই অবাধে এই লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একাধারে কৌতূহল ও শঙ্কা কাজ করছে।এলাকাবাসীর ৬টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নতালহা-ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ৬টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন:১. মেলার অনুমোদন: এই 'গ্রামীণ কুটির শিল্প মেলা' আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট স্থানিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা লিখিত অনুমতিপত্র নেওয়া হয়েছে কি না?২. লটারির আইনি বৈধতা: মেলার আড়ালে যে লটারি চালনা ও টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, তার জন্য সরকারি কোনো রাজস্ব বা বিশেষ আইনি অনুমতি নেওয়া আছে কি না?৩. অর্থের হিসাব ও স্বচ্ছতা: লটারির টিকিট বিক্রি থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে এবং তার আয়-ব্যয়ের সুষ্ঠু হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে?৪. জরুরি ছাড়পত্র: মেলা প্রাঙ্গণে জনসমাবেশের নিরাপত্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র, পরিবেশগত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছাড়পত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না?৫. আয়োজকদের পরিচয় ও নথিভুক্তকরণ: উক্ত মেলার পেছনের উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সঠিক নথি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সঠিকভাবে জমা বা নিবন্ধিত আছে কি না?৬. শর্ত লঙ্ঘনে আইনি ব্যবস্থা: অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বা পরিচালনার শর্তে কোনো আইনগত ব্যত্যয় কিংবা অনিয়ম ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাত্ক্ষণিকভাবে কী ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেবে?আরও পড়ুন, টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের অভিযানে রাজনৈতিক মামলার আসামিসহ ৬ জন গ্রেপ্তারনিরাপত্তার ঝুঁকি, শব্দদূষণ ও নাগরিক ভোগান্তিমেলার জনসমাগমকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় পরিবেশগত ও সামাজিক ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। অনিয়ন্ত্রিত মাইকিংয়ের কারণে তীব্র শব্দদূষণ, রাতভর চলা কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিধান না থাকলে স্থানীয় সড়কে তীব্র যানজট ও জননিরাপত্তার গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।সচেতন মহলের অভিমত ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবিএলাকার সচেতন মহলের মতে, কোনো পক্ষকে আগাম অভিযুক্ত না করে অথবা ঢালাও কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ে মেলা প্রাঙ্গণে সরেজমিন পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাই করা। মেলার অনুমোদনপত্র, লটারির ছাড়পত্র এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত সরকারি রাজস্ব ও ফি পরিশোধের নথিপত্র পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করে মেলার আড়ালের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। তদন্তে যদি কোনো অবৈধ কার্যক্রম, অনুমোদনহীন লটারি কিংবা প্রশাসনিক শর্ত লঙ্ঘনের সত্যতা মেলে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত