প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মা ও ৮ মাসের ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার
সংবাদ দিগন্ত ||
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইমন মিয়া। সোমবার সন্ধ্যায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী জবানবন্দিতে ইমন ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ জানায় জবানবন্দিতে ইমন দাবি করেছেন পায়ের ব্যথার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। তার মা এতে বাধা দেওয়ায় তিনি মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে আসা ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকেও আছড়ে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।এ ঘটনার জন্য আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমন বলেন তিনি সর্বনাশ করেছেন এবং তখন তার মাথা ঠিক ছিল না।সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইমনের মা পিয়ারা বেগম এবং তার বড় ভাই সুজন মিয়ার ৮ মাস বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহান।আরও পড়ুন, গাজীপুরের শ্রীপুরে মশাল মিছিলে সাতজনকে আটক করল বিএনপি নেতাকর্মীরাপুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী ইমন কয়েক বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান। পরে অস্ত্রোপচার করা হলেও ব্যথা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে আবারও তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে আগের দিন বাড়ি ফেরার পরও পায়ের ব্যথা অব্যাহত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।ঘটনার সময় ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তার মা তাকে বাধা দেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। একপর্যায়ে ইমন মায়ের কাছ থেকে দা নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।এ সময় ইমনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ৮ মাস বয়সী মেয়েকে কোলে নিয়ে সেখানে এলে তাকেও কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে রাবেয়া আহত হন। তার কোলে থাকা শিশুটি আঘাত পেয়ে নিচে পড়ে গেলে ইমন তাকে তুলে আছড়ে হত্যা করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত রাবেয়া বেগমকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ইমনকে একটি ঘরে আটকে রাখেন তারা।খবর পেয়ে দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে আটক করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত