প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এনসিটি ইজারা ইস্যুতে বন্দরে নতুন সমীকরণ ৪ দাবিতে ২ দিনের আলটিমেটাম
এম মিজানুর রহমান ||
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক সংগঠন দুটি এনসিটি ইজারা চুক্তির কার্যক্রম বন্ধসহ চার দফা দাবি জানিয়ে দুই দিনের আলটিমেটাম দেয়।সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, এনসিটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা। এটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় আয়, কর্মসংস্থান ও বন্দরের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর জানান, এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহার, চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনবল নিয়োগ কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় নিমতলা বিশ্বরোড থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ফকিরহাট ৩ নম্বর গেট থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।আরও পড়ুন, গাজীপুরে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক নারী কারবারি গ্রেপ্তারসংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে বন্দরের আয় দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তারা।তাদের ভাষ্য, এনসিটি থেকে সরকার বর্তমানে কর, ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়ে থাকে। তাই লাভজনক এই স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।তারা আরও দাবি করেন, এনসিটির বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে যে নেতিবাচক মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি হলো, বৈশ্বিক বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষ অপারেটরদের মাধ্যমে প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং সেবার মান উন্নত করা সম্ভব।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর পরিচালনায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা কনসেশন মডেল ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ব্যবস্থায় সাধারণত অবকাঠামোর মালিকানা রাষ্ট্রের কাছেই থাকে, তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক অপারেটরকে দেওয়া হয়।আরও পড়ুন, বাসন থানার বিশেষ অভিযানে ৯ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণসমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত হলে বড় জাহাজ পরিচালনা, কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়তে পারে।এনসিটি ইজারা নিয়ে মূল বিতর্ক তিনটি বিষয়কে ঘিরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক সুবিধা এবং কর্মসংস্থান। শ্রমিক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলে বন্দরের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে বিদেশি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর পক্ষে থাকা পক্ষগুলোর যুক্তি, আধুনিকায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন হতে পারে।এনসিটি পরিচালনা নিয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, শ্রমিক স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।চট্টগ্রাম বন্দরের মতো দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক মান, শ্রমিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত