প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোটালীপাড়ায় মাদ্রাসার স্থাপনা আটকে দোকান নির্মাণ; ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী
আবদুস সালাম ||
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের কুতুপাড়া-তুলশীরহাট সড়কের কালভার্ট সংযোগস্থলে ধস নেমে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সড়কটি কালভার্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ অংশ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী ও ছোট যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে।১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তুলশীরহাট এলাকার কালভার্টের সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে গেছে। সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। গর্তটি আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ফুট দীর্ঘ এবং ৪ থেকে ৫ ফুট প্রশস্ত। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের মাটিও সরে গেছে। কালভার্টের প্রায় ২০ গজের মধ্যে রয়েছে তুলশীরহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়।স্থানীয় বাসিন্দা আতারুল হক বলেন, প্রায় এক মাস ধরে সড়কটির এ অবস্থা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত মেরামত করা না হলে গর্তটি আরও বড় হয়ে সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।বৃদ্ধা অভিজাত খাতুন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বাজার, স্কুলসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় হাঁটাচলা করতেও কষ্ট হয়। বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগ আরও বেশি।আর ও পড়ুন. কোটালীপাড়ায় মাদ্রাসার স্থাপনা আটকে দোকান নির্মাণ; ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীতুলশীরহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় এই জায়গাটি পার হতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম রাজু বলেন, বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান বলেন, সড়কটির সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিপরীত পাশে নতুন করে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সংস্কার করা সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ধস আরও বিস্তৃত হয়ে সড়কটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত