প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের কাছে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ
সংবাদ দিগন্ত ||
সুন্দরবনে দস্যুবিরোধী অভিযানের মধ্যে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য। মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করেন।বৃহস্পতিবার কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক এসব অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেল ৬টার দিকে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তলের গুলি,আরও পড়ুন, মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর, উদ্ধার ২ অবিস্ফোরিত ককটেল পাঁচ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি।কোস্টগার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নানা ভাই বাহিনীর ১২ জন ছাড়াও ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ সক্রিয় ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।অন্যদিকে দস্যুবিরোধী বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং তাদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত