প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসামির জামিনের পর প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, আদালত-প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ
রাইসুল ইসলাম খোকন ||
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক ভিটায় বসবাসের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একটি পক্ষ। তবে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে আদালতের দেওয়া জামিন আদেশ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানববন্ধনকারীদের বিরুদ্ধে মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় মৎস্যজীবী শফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সাদ্দাম হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ তুলে জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ, এলাকা ছাড়ার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সাদ্দাম হোসেনের পক্ষের লোকজন বলেন, মামলার ঘটনায় একতরফাভাবে তাদের দায়ী করা হচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা শফিকুল ইসলামের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়ে তাদের ওপর দায় চাপিয়েছে। তাই মামলার অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে মানববন্ধনের ব্যানারে ‘এলাকাবাসী’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। তাদের ভাষ্য, কর্মসূচিতে একটি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অংশগ্রহণ থাকলেও বৃহত্তর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিনিধিত্ব বা পৃথক বক্তব্য দেখা যায়নি। ফলে এটি এলাকাবাসীর সম্মিলিত কর্মসূচি নাকি একটি পক্ষের অবস্থান—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আসামির আইনগত অধিকার।আরও পড়ুন, মধ্যনগরে মাদক বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে ওসি'র ব্যতিক্রমি উদ্যোগ জামিনের বিষয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে জামিনের পর কোনো পক্ষ হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে তারও আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করাই সমাধানের পথ। তাদের দাবি, মানববন্ধনের নামে বেআইনি বক্তব্য, উসকানি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। বরং প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জামিনের পর কোনো আসামি হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকলে বাদী পক্ষ তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে বিষয়টি অবহিত করতে পারেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা শফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে আদালত হয়ে থানায় আসেনি। মানববন্ধন করেছেন কি না, তা শফিকুল ইসলামই ভালো বলতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত