প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর হটস্পট বাড়ছে, সেপ্টেম্বরে ৭ দিনেই আক্রান্ত ৫ শতাধিক
সংবাদ দিগন্ত ||
চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪৮ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ছয়জন।বৃষ্টির পানি জমে বাড়ছে এডিস মশার প্রজনন। আর এর সঙ্গে চট্টগ্রামে ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২ জন। আর বছরের প্রথম সাত মাসে আক্রান্ত হন ৮৩৪ জন।সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৪৮ জন। মারা গেছেন ছয়জন। এর মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, বিআইটিআইডিতে ১৮ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, সিএমএইচে একজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।আরও পড়ুন, এসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া বিকাশের স্ক্রিনশট ও কল রেকর্ড তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদবিশেষজ্ঞরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ফুলের টব, ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পাত্রে পানি জমছে। এসব স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটছে।এদিকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। স্বাভাবিকের তুলনায় লার্ভার উপস্থিতি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা। জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান নাগরিকদের বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মশক নিধন ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।চট্টগ্রামে এখনো ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস ও সমন্বিত প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত