প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্যুতের সংকটে সরিষাবাড়ী হাসপাতাল, দুর্ভোগে রোগী-স্বজন
রাইসুল ইসলাম খোকন ||
জামালপুরের সরিষাবাড়ী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের জেনারেটর। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়।রোগী, স্বজন ও সরেজমিনে জানা গেছে, দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা থাকলেও ফ্যান চালানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ রোগীদের শারীরিক কষ্ট আরো বেড়ে যায়। ঢুরিয়ারভিটা গ্রামের বাসিন্দা ও এক রোগীর স্বজন জেসমিন আক্তার বলেন, 'হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর অচল হয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হয়। প্রচণ্ড গরমে অনেক রোগী হাত পাখা দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করেন। স্বজনদেরও রাত জেগে রোগীর পাশে বসে থাকতে হয়।'আরও পড়ুন, ড্যাফোডিলে জাতীয়-আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারী অর্ধশতাধিক ক্রীড়াবিদ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা রোগীর স্বজন তারাকান্দি গ্রামের আল্পনা আক্তার বলেন, দ্রুত জেনারেটরটি মেরামত করে সচল করা হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একইসঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরো কার্যকর ও নিরবচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি চর সরিষাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, 'রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।' সরিষাবাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও ও বিতরণ বিতরণ কেন্দ্রের কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, 'বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা সরবরাহ করি।' এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের জেনারেটরটি সামান্য ক্রুটি থাকলেও সেটি ঠিক করা হয়েছে। শুধুমাত্র রোগীর অপারেশনে সময় জেনারেটর মেশিনটি চালু করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে হাসপাতালে যাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত