প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেউতায় ১০ হাজার অভিবাসী, বাড়ছে উদ্বেগ
||
সৈকত আছে, সমুদ্র আছে—কিন্তু নেই আগের সেই স্বাভাবিক দৃশ্য। পর্যটকদের বদলে এখন সৈকতজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী তাঁবু। খাবার ও পানির জন্য অপেক্ষায় শত শত মানুষ। রাস্তায় পুলিশের গাড়ি, টহলে সেনা। কোথাও সংঘর্ষের উত্তেজনা, কোথাও স্থানীয়দের বিক্ষোভ। সন্ধ্যা নামলেই আরও ঘনীভূত হচ্ছে উদ্বেগ।উত্তর আফ্রিকার মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনের ছোট ভূখণ্ড সেউতা এখন এমনই এক অভিবাসন সংকটের মুখে।গত ৩০ জুলাই একদিনে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাঁদের অধিকাংশ ফিরে গেলেও প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।আয়তনে ছোট এই ভূখণ্ডটির জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষের আকস্মিক আগমন তৈরি করেছে বড় চাপ। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি আশ্রয়প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তা—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে প্রশাসনকে।সৈকত ও আশপাশের এলাকায় ত্রিপল, প্লাস্টিকসহ হাতের কাছে পাওয়া সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়। মানবিক সংগঠনগুলো খাবার ও পানি সরবরাহ করলেও দীর্ঘদিন এভাবে অবস্থানের কারণে স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ, চুরি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। আড়ও পড়ুন,তলানিতে মার্কিন তেল রিজার্ভকয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।গত এক মাসে ২১টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার দাবিও করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় যৌন অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভুক্তভোগী হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত বা মামলার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার ও দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভও হয়েছে।তবে সেউতায় আসা অভিবাসীদের সবার গল্প এক নয়। কেউ উন্নত জীবনের আশায়, কেউ ভালো চাকরির সন্ধানে, আবার কেউ নিরাপত্তার জন্য ইউরোপে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই প্রায় ১০ হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ কী?স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, সরকার আইন মেনেই মানবিক মর্যাদার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। তবে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।ফলে ছোট্ট সেউতায় এখন চলছে দীর্ঘ অপেক্ষা। অভিবাসীরা অপেক্ষা করছেন ইউরোপে নতুন জীবনের আশায়, স্থানীয়রা অপেক্ষা করছেন স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার। আর প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—নিরাপত্তা ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত