প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ বছরেই কোটি টাকার সম্পদ, প্রশ্ন উৎস নিয়ে
নাজমুল আলম মাসুদ ||
মাত্র ২৮ বছর বয়সেই বিলাসবহুল বাড়ি, বিঘার পর বিঘা জমি এবং অঢেল সম্পত্তি। তিনি বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো ইউনিয়নে তার ক্ষমতার দাপটে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে, তার ইশারা ও অনুমতি ছাড়া এই ইউনিয়নের কোনো জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয় করা প্রায় অসম্ভব। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে জমি জোরপূর্বক ক্রয়-বিক্রয়ে বাধ্য করার অভিযোগে এলাকায় এখন তিনি ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সাদ্দামের এই রূপকথার মতো রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার নেপথ্যে আয়ের প্রকৃত উৎস কী, তা নিয়ে চরম প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মনে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে সাদ্দাম হোসেনের জীবনযাত্রায় অলৌকিক পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা সাদ্দাম রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের জমি কেনাবেচার বাজার সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, যেকোনো জমির মালিক ও ক্রেতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায়, জোরপূর্বক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে জমি লিখে নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি হস্তান্তরে বাধ্য করাই তার প্রধান হাতিয়ার। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন আনোয়ারা থানার ওসি সহ ফ্যাসিবাদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সিলভার শাকিল ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা। এরা সাদ্দাম হোসেনের হাতিয়ার হিসেবে বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করে থাকেন। সাদ্দামের কথা অমান্য করে এলাকায় কোনো জমি বেচা-কেনা করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সাদ্দাম হোসেনের কথা না শুনলে পায়ের রগ কেটে দেবেন বলে হুমকি প্রদান করেন এই সিলভার শাকিল।আড়ও পড়ুন,মসজিদ-স্কুলের পাশেই ইয়াবার হটস্পট! সদরঘাটে জনমনে উদ্বেগভুক্তভোগীদের একাংশের অভিযোগ, কোনো জমি বিক্রি করতে গেলে সাদ্দামকে মোটা অঙ্কের চাঁদা বা শেয়ার না দিলে সেই জমিতে ঝামেলার সৃষ্টি করা হয়। এভাবে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি শত শত শতাংশ জমি নিজের নামে বা বেনামে কুক্ষিগত করেছেন। একই সাথে গড়ে তুলেছেন এক বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদতুল্য বাড়ি। মাত্র ২৮ বছর বয়সে পেশাগত বড় কোনো দৃশ্যমান সফলতা ছাড়া কীভাবে তিনি এত বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এলাকাবাসী ও সাধারণ জনগণ এখন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। তারা চান কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার না করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় প্রশাসন যেন সাদ্দাম হোসেনের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত নামায়। একই সাথে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে ভূমিদস্যুতার হাত থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক ও ভয়হীন পরিবেশে জমি কেনাবেচার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত