প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ দিগন্ত: ||
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথাকথিত সংবাদ প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম প্রকৃত সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও অভিযোগ রয়েছে, একটি অংশ সংবাদ প্রকাশের আড়ালে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মানহানি এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিকরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।আরও পড়ুন: গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ, স্পা সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহের নামে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের কেউ কেউ আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দাবিকৃত অর্থ দিতে রাজি না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দেওয়া হয়। কখনো একই ধরনের সংবাদ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে চাপে পড়ে।সাংবাদিক মহলে এমন একটি ঘটনার কথাও আলোচনা রয়েছে। এক ব্যক্তি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভাই, ২৬টি অনলাইনে ও পেজে নিউজ হয়েছে।’ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য অনেক সময় আতঙ্ক তৈরি এবং নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সংবাদ কতটি পেজ বা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিই যে সংবাদটির সত্যতা প্রমাণ কওে এমন ধারণা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং একই উৎস থেকে যাচাইহীন তথ্য কপি করে অসংখ্য পেজে প্রকাশিত হলে সেটি জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়াতে পারে। একটি মহল কোনমতে ১৫০০-২০০০ টাকা দিয়ে অনলাইন পোর্টাল খুলেই তিনি সাংবাদিক। অথচ নেই কোন নিবন্ধন।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারাসাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশ করা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর সংবাদ মুছে ফেলা কিংবা অর্থ না দিলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হলে তা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগের জন্ম দিতে পারে। রাজধানীর কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, কোনো কোনো অনলাইন পেজে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ পরিশোধের পর সেই সংবাদ সরিয়ে ফেলার বা পোস্ট মুছে দেওয়ার কথাও শোনা যায়।এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনো সংবাদ ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সংশোধন বা প্রত্যাহারের একটি স্বাভাবিক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ বা মুছে ফেলা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশ ও বাণিজ্যিক লেনদেনের মধ্যে স্বচ্ছ সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন বা বৈধ বাণিজ্যিক চুক্তিকে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা যেমন অনৈতিক, তেমনি সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগঅনিবন্ধিত ও পরিচয়হীন অনলাইন পেজের বিস্তারে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থাকা সংবাদকর্মীরা। কারণ সাধারণ মানুষ অনেক সময় একটি ফেসবুক পেজের নামের সঙ্গে ‘নিউজ’, ‘প্রেস’, ‘মিডিয়া’ বা ‘সাংবাদিক’ শব্দ থাকলেই সেটিকে গণমাধ্যম হিসেবে ধরে নেন। ফলে কে প্রকৃত সাংবাদিক, কে সংবাদমাধ্যমের অনুমোদিত প্রতিনিধি এবং কে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পেজ পরিচালনা করছেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হলেও সাধারণ মানুষের চোখে তা অনেক সময় ‘সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে প্রতিভাত হয়।আরও পড়ুন: বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎএকজন পেশাদার সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন তথ্য সংগ্রহ করি, মানুষের বক্তব্য নিই, নথিপত্র যাচাই করি। কিন্তু কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন, তাহলে তার দায় শেষ পর্যন্ত আমাদের পেশার ওপর এসে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথিত সাংবাদিকরা প্রথমে ভিডিও ধারণ, ছবি তোলা কিংবা তথ্য সংগ্রহের কথা বলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘বড় নিউজ’ করার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী কখনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড, কখনো মাদক, কখনো অবৈধ ব্যবসা কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের মতো গুরুতর বিষয় সামনে আনা হয়।তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি সত্য কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান সত্যিই আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ সংবাদ প্রকাশ করা। আর অভিযোগের আড়ালে যদি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি সাংবাদিকতা নয়—বরং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহারের অভিযোগ। ফেসবুকভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো যাচাই ছাড়াই ব্যক্তির ছবি, নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা। কোনো অভিযোগের তদন্ত বা বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত জীবনে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, যৌন হয়রানি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তমূলক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় সংবাদ ও অপপ্রচারের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।আরও পড়ুন: গুম-খুন ও জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট মহলে সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি ঘুরছে, তা হলো কথিত কিছু অনলাইন পেজে অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ বা অপসারণের ঘটনা। যদিও এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, লেনদেনের নথি, অডিও-ভিডিও বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রয়োজন। যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিই সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন, তাহলে ভুক্তভোগীর উচিত বিষয়টি গোপনে অর্থ দিয়ে মিটিয়ে ফেলার পরিবর্তে আইনগতভাবে অভিযোগ করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা। কারণ অর্থ প্রদান করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেললে এ ধরনের চক্র আরও উৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলছেন পেশাজীবীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করলে বিষয়টি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু সেই স্বাধীনতার আড়ালে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের আওতায় আসতে হবে।আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে কঠোর গুলশান পুলিশ, স্পা সেন্টারে অভিযানএকই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের হয়রানি বা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকেও পেশাগত পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনটি নিবন্ধিত বা বৈধভাবে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম এবং কোনটি ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ—এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একটি ফেসবুক পেজ থাকা আর একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় কাঠামো, দায়িত্বশীল সম্পাদক, প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্য, সাংবাদিকদের পরিচয় এবং সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ও নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করা।সাংবাদিক নেতারা বলছেন, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত সাংবাদিকরাই উপকৃত হবেন। কারণ অপরাধীদের কারণে পুরো পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া বন্ধ হবে। তাদের মতে, সংবাদ প্রকাশের নামে অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং অর্থের বিনিময়ে সংবাদ মুছে ফেলার মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন সংবাদ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক বিরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপরও মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা না করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ যেমন কঠোরভাবে তদন্ত করা দরকার, তেমনি কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানি করাও উচিত নয়। প্রমাণ, নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বেড়েছে। একটি ফেসবুক পেজের কয়েক হাজার অনুসারী থাকা তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে পরিণত করে না। সংবাদ হলো জনস্বার্থের বিষয়; সেটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থ, ভয়ভীতি বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার বানানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ। তাই অনিবন্ধিত বা পরিচয়হীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নামে ওঠা চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং একই সঙ্গে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে একদিকে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবে, অন্যদিকে সাংবাদিকতার পেশার প্রতি মানুষের আস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।