প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে চরম অনিয়ম ও সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ
শফিউল মঞ্জুর ফরিদ ||
ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে মদকের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্মী ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তোর মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত পুলিশি তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, নিরপেক্ষতার অভাব এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামের বিরুদ্ধে শিখিয়ে দেওয়া জবানবন্দি দেওয়ার জন্য সাক্ষীদের জোরপূর্বক রাজি করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে রাজি না হওয়া প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাদকসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি থাকা সত্ত্বেও প্রধান কর্মকর্তা এককভাবে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করেন। উপরন্তু, সাক্ষীদের জবানবন্দির সঠিক প্রতিফলন নথিতে না থাকায় নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস হয়ে পড়া এবং অটোপসি, সুরতহাল ও মেডিকেল বোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত তথ্যের স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা দেওয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।আরও পড়ুন, শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনগত ২০ জুন মধুখালীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রান্তোকে আটক করার পর হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সিটি স্ক্যানে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আলামত মেলে। পুলিশের দাবি, তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন এবং সিআইডি ফরেনসিক বিশ্লেষণে কোনো বিষক্রিয়া বা আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।ফরিদপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি বর্তমানে বিভাগীয় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা এর নিকট উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে তার নিকট থেকে কোনো সন্তোষজনক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এছাড়াও তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্যের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন সম্বন্ধে জানতে চাইলে তাহারা এ বিষয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি হননি। এদিকে, একই সময়ে গ্রেফতার হওয়া প্রত্যক্ষদর্শী—মধুখালী থানার পশ্চিম গ্যারাখোলা গ্রামের মোঃ জুয়েল ও মোঃ চঞ্চল, বোয়ালমারী থানার তেলজুরি গ্রামের মোঃ আনিস এবং ফরিদপুর সদর থানার অম্বিকাপুর গ্রামের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া সাক্ষ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এই বিবরণ ও সাক্ষ্যের সাথে পরবর্তীতে তদন্ত প্রধানের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্ত কমিটির তথ্যের ব্যাপক অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়েছে। এই বিতর্কিত তদন্ত প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগন ও সুধী সমাজ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত