প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
বনানীতে মার্ভেল ইন গেষ্ট হাউজ ঘিরে আবারও পায়েলের অপরাধ সিন্ডিকেট
সংবাদ দিগন্ত: ||
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে ৮ নং বাড়িটিতে অবস্থিত একটি গেষ্ট হাউজ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, নারী সরবরাহ, মাদক লেনদেন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পূর্বে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা, কথিত ‘এসকর্ট সার্ভিস’, মাদকসংশ্লিষ্টতা এবং হোটেলকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। কয়েকদিন আগে বনানী থানা পুলিশ গেষ্ট হাউজ ঘিরে অভিযান চালিয়ে কথিত অপরাধচক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের অভিযানের পর প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এত সময় লাগল কেন? এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলেও সেগুলো কতটা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়েছিল, সেটিও এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন: বনানীতে মার্ভেল ইন হোটেল ঘিরে মিজান ও পায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগস্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গেষ্ট হাউজটি প্রথমদিকে সাধারণ আবাসিক গেস্ট হাউজ হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত, অল্প সময়ের জন্য কক্ষ ব্যবহার এবং বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ঘন ঘন প্রবেশ ও বের হওয়ার ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। সাধারণ আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউজের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান ও গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করে যে অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে এবং বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। মার্ভেল ইনকে ঘিরে আলোচনায় ‘পায়েল’ নামের ব্যক্তির ভূমিকার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রে তাদের নাম প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হলেও, তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং আইনগত দায় তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।আরও পড়ুন: বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎঅভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী কিংবা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। কোনো অভিযোগ বা সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি, হুমকি অথবা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।মার্ভেল ইন নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বলা হয়, পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই।একটি আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউজে সাংবাদিকের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার নিজস্ব নিয়ম থাকতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তথ্য ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকা জরুরি।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারাঅভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রশ্ন নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত।মার্ভেল ইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ব্যবসা বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের সারমর্ম তাদের ব্যবসার প্রয়োজনীয় বৈধতা রয়েছে এবং সংবাদ প্রকাশ করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্রেড লাইসেন্স বা অন্য কোনো অনুমোদন থাকলেই তার প্রতিটি কার্যক্রম বৈধ হয়ে যায় না। প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, হোটেল বা গেস্ট হাউজ পরিচালনার অনুমতি, অতিথি নিবন্ধন, অগ্নিনিরাপত্তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালিত কার্যক্রম—সবকিছুই সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী হতে হয়।আরও পড়ুন: বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেটবিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, যৌন হয়রানি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ থাকলে সেটি আলাদাভাবে তদন্তের বিষয়। বনানী থানা পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে কথিত অপরাধচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, তাদের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তথ্য, কক্ষ ব্যবহারের রেকর্ড, অতিথি নিবন্ধন এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা হলে হোটেলটির প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে হোটেলটির সিসিটিভি ফুটেজ, বুকিং রেকর্ড, কর্মচারীদের তথ্য এবং নিয়মিত যাতায়াতকারীদের বিষয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সহজ হতে পারে।মার্ভেল ইনকে ঘিরে বর্তমান অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতীত ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলো দাবি করেছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ অতীতে স্পা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়েও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল।বনানী রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও হোটেল রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, রাতের বেলায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের কারণে তারা পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।আরও পড়ুন: গ্লোবাল কনজ্যুমার অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফোরামের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনবর্তমানে পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিযানের পর তদন্ত কতদূর এগোয় এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতাদের শনাক্ত করা হয় কি না। পুলিশের অভিযানের পর আবারো একই ব্যবসা চালু করেন পায়েল নামের ব্যক্তি। ইতিপূর্বে গুলশানে উক্ত পায়েল বিভিন্ন অপরাধের দ্বায়ে গুলশান থানায় একধিক মামলা জড়িয়ে পরেন। ফলে বেশ কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিয়ে ছিলেন। এছাড়া বিগত আমলে স্বৈরাচারী আ.লীগের আমলে বেশ ক্ষমতার দাপটে নিজের বাড়ি গোপলগঞ্জে পরিচয়ে সমাজে বিভিন্ন অপরাধ করতেন এবং ভয়ে কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পেত না। তবে পায়েল বলেন, পুলিশ কয়েকদিন আগে আমার গেষ্ট হাউজে অভিযান পরিচালনা করে অনেককেই গ্রেফতার করেছেন এবং পরে থানা পুলিশের সাথে সমঝোতা কওে আবারও ব্যবসা চালু করেছি। আরো বিস্তারিত আসছে...
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত