প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
বর্ষায় প্রাণ ফিরেছে চাঁচড়া মৎস্য পল্লিতে, জমজমাট পোনা বেচাকেনা
সংবাদ দিগন্ত ||
দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মাছের পোনা সরবরাহ হয় যশোরের ঐতিহ্যবাহী চাঁচড়া মোকাম থেকে। বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় এই মৎস্য পল্লি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনভর্তি রেণু ও পোনা। যার দৈনিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা।তবে বিপুল এই বাণিজ্যের বিপরীতে নেই নিরাপদ ও পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা। মহাসড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়ে চলছে প্রতিদিনের বেচাকেনা।অথচ ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য শহরের চাঁচড়া মাগুরপট্টিতে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় মাছের পোনা বিক্রয়কেন্দ্র। কিন্তু ভুল জায়গা নির্বাচন, অপর্যাপ্ত সুবিধা ও ব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত।মৎস্য বিভাগের তথ্য বলছে, যশোরের ৯৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জলাশয়ে বছরে উৎপাদিত হয় ২ লাখ ৪১ হাজার টনের বেশি মাছ। আরও পড়ুন, ইয়াবাসহ ১ মাদক কারবারি ও ২ মাদক সেবী গ্রেফতার জেলার ৪২টি হ্যাচারি ও ৪ হাজার ৩২৭টি নার্সারিতে বিপুল পরিমাণ রেণু ও পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। যার বাজারমূল্য ৭০০ কোটি টাকারও বেশি।বর্ষায় চাঁচড়া বাবলাতলার মোকামে এখন ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। রুই, কাতলা, মৃগেল, শিং, টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির রেণু ও পোনা কিনতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসছেন পাইকাররা।প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ মণ পোনা হাতবদল হচ্ছে। এই মোকামকে ঘিরে সরাসরি জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ।ব্যবসায়ীদের দাবি, কোটি কোটি টাকার বেচাকেনা হলেও মোকামের অবস্থা বেহাল। কাদা-পানি মাড়িয়ে মহাসড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে তাদের।মৎস্য বিভাগ বলছে, ব্যবসায়ীদের নিরাপদ বিক্রয়কেন্দ্রে আনতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এখন প্রশ্ন—দেশের বিশাল মৎস্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই মোকাম কবে পাবে একটি কার্যকর ও নিরাপদ বাজারব্যবস্থা?
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত