প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ প্রকাশের জেরে চকরিয়ায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
মো: ইনতাজ হোসেন ||
সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখির জেরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী ও তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক ইসমাইল তুহিনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিক আদিলের শিশু সন্তান ও ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের সামনে হামলা চালানো এবং তাঁর ভাইয়ের চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জিদ্দাবাজার স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।আহত সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী দৈনিক দৈনন্দিনের বিশেষ প্রতিনিধি এবং দৈনিক আমার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার। তাঁর সহকর্মী ইসমাইল তুহিন দৈনিক দৈনন্দিনের চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।এ ঘটনায় সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মানিক (৫২), মো. বাবুল (৪০), শফি উল্লাহ (৪০), আমান উল্লাহ (৩৫), মো. সমন্ড (৪৯) ও আবু তাহের (৩৫)-সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০–৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে লক্ষ্যারচরের জিদ্দাবাজার স্টেশনে সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরীর বড় ভাই মরহুম ডা. মাসুদ সরওয়ারের ‘জার্মান বাংলা হোমিও ফার্মেসি’ নামের চেম্বারে অবস্থান করছিলেন আদিল, তাঁর সহকর্মী ইসমাইল তুহিন, পরিবারের সদস্যরা এবং তাঁর ৮৫ বছর বয়সী মা বেগম নূরী।অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় নুর মোহাম্মদ মানিকের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, কিরিচ, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চেম্বারে প্রবেশ করে। পরে তারা সাংবাদিক আদিল ও ইসমাইল তুহিনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।হামলা ঠেকাতে এগিয়ে গেলে আদিল আহামেদ চৌধুরীর ৮৫ বছর বয়সী মা বেগম নূরীকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে এজাহারে দাবি করা হয়।এ সময় তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ।আরও পড়ুন, তিতাসের আসমানিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শনে এসিল্যান্ড একটি স্মার্টফোন ও নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।হামলাকারীরা চেম্বারে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জার্মান হোমিওপ্যাথিক ওষুধের কাঁচের বোতল ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক আদিল।এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে দেখে সাংবাদিকের আরেক ভাই ও একজন সাক্ষী ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরীর দাবি, অভিযুক্তদের বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।আদিল আরও অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত এজাহার দেওয়ার পরও মামলা প্রত্যাহার কিংবা আইনগত পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।‘সংবাদ প্রকাশ করায় ধোলাই দিয়েছি’নুর মোহাম্মদ মানিক অভিযোগের বিষয়ে নুর মোহাম্মদ মানিক সাংবাদিক আদিল ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা স্বীকার করে বলেন, তাঁরা প্রায়ই তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন।তিনি বলেন, “তারা সব সময় আমাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বদনাম করে লিখে। যার কারণে তাকে ধোলাই দিয়েছি। তার মায়ের জন্য মার কম খেয়েছে, মা না থাকলে তাকে দেখাতাম।তবে হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সাংবাদিকের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আরও পড়ুন, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসককে মারধরসাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ:প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি।তাঁদের মতে, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপরও আঘাত। ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকলে তার সমাধান আইনি ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সাংবাদিক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত