প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
উত্তরা পূর্বে জিয়া সাইবার ফোর্সের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
সংবাদ দিগন্ত: ||
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে জিয়া সাইবার ফোর্স জেডসিএফ, ঢাকা মহানগর উত্তর।সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সাংগঠনিক নথিতে এ কমিটির অনুমোদনের তথ্য উঠে এসেছে। নথিতে সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন উত্তরা পূর্ব থানার ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নথিটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কমিটিতে মো. সাজ্জাদ হোসেন শিশুকে আহ্বায়ক এবং আজম কানাম আজাদকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া আব্দুর রশিদ রানা, সায়মন ইসলাম, আশিকুর রহমান আশিক ও মো. মামুনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শাওন চৌধুরী লিংকনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ‘প্রচার এর দায়িত্বে’ রাখা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।আরও পড়ুন: বিএনপিতে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের তোড়জোড়কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. মামুনুর রশিদ রানাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাসেল আশিক হিমেল, শাহিন আহমদ আশিক, অভিজিৎ হোসেন, জহিরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম রবিন, আশিক প্রামাণিক, ওবায়দুল্লাহ, আরিফুর ইসলাম, ফরিদুল ইসলাম, মো. রাকিবুল হাসান খান রিমি, মো. তানিম আহমেদ, মো. হানিফ উদ্দিন এবং মো. গোলাম হোসেন।নথির নিচের অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত এ কমিটির দায়িত্ব হবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া।ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ, গুজব, ভুয়া তথ্য, অনলাইন হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারসহ নানা ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় সাইবার সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার জ্যেষ্ঠ নেতা, রিজভী-আমানসহ নতুন সদস্য মনোনীতউত্তরা পূর্ব থানার নতুন কমিটি যদি সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা এবং তরুণদের ইতিবাচকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তা স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ, অনলাইনে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা এবং সাইবার অপরাধের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে—এসব বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক থেকে শুরু করে যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও সাধারণ সদস্য—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এতে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোকে কার্যকর করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা পাওয়া যায়।আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রচার ও জনসম্পৃক্ততার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সংগঠনের কমিটি অনুমোদনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন। শুধু কমিটি গঠন নয়, নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সাইবার সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দৃশ্যমান করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াতনথিতে ৬০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি অন্তর্বর্তী সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সদস্যদের সাংগঠনিক দক্ষতা, সক্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া গেলে কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। সামাজিক সংগঠন কিংবা সাইবারভিত্তিক কোনো প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাইবার সচেতনতার নামে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে সে বিষয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার সচেতনতা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রযুক্তিকে নিরাপদ, আইনসম্মত ও ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করার বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে অনলাইন অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়াও জরুরি। উত্তরা পূর্ব থানার ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনটির নতুন সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা হলো। এখন এই কমিটির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সক্রিয় করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। তথ্য অনুযায়ী, কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিলে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় সাইবার সচেতনতা ও সামাজিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে এর বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে কমিটির কার্যক্রম কতটা নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, জনকল্যাণমুখী ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হয় তার ওপর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত