প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
ভাটিয়ারীতে জাহাজে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত গ্যাসেই ৯ শ্রমিকের মৃত্যু
এম মিজানুর রহমান ||
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজের অভ্যন্তরে জমে থাকা এই বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং দায় নির্ধারণে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসবিআর) পৃথকভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।শিল্প সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ৯ সদস্যের এবং বিএসবিআর ৫ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে।তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছে, কর্মপরিবেশ কতটা নিরাপদ ছিল, এবং এ ঘটনায় কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে।”আব্দুন নাসের খান আরও জানান, তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের অবহেলা কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আরও পড়ুন, বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ আসামি গ্রেফতারশিল্প সচিব জানান, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরীক্ষার ফলাফলে জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস শনাক্ত হয়েছে। এই গ্যাস মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বদ্ধ পরিবেশে তা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফলে শ্রমিকদের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১১টার দিকে নিহত কয়েকজন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডাকা হয়।ভাটিয়ারীর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। কীভাবে জাহাজের ভেতরে এমন প্রাণঘাতী মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকল, সেখানে কাজ শুরুর আগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়েছিল কি না, এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।৯ শ্রমিকের প্রাণহানির এ ঘটনায় শোকের পাশাপাশি দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। তদন্তে সত্য উদ্ঘাটিত হলে তবেই স্পষ্ট হবে, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল মারাত্মক অব্যবস্থাপনা ও অবহেলা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত