প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
পার্বত্য শিশুদের পুষ্টি-স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তহজিংডং ও হেলেন কেলার
মো: ইনতাজ হোসেন ||
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী সেবাসমূহে প্রবেশাধিকার ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ বিষয়ক প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা তহজিংডং-এর আয়োজনে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন।প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মেসাইনু মার্মার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর জাফর উল্লাহ। এতে স্বাগত বক্তব্য ও প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম।সভায় জানানো হয়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা তহজিংডং-এর বাস্তবায়নে এবং ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (FIVDB)-এর কারিগরি অংশীদারিত্বে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় নভেম্বর ২০২৫ থেকে অক্টোবর ২০২৬ মেয়াদে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে, যার মধ্যে লামা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং ৫৭২টি পাড়া অন্তর্ভুক্ত। সমন্বিত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, আরও পড়ুন, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাস-ট্রাক সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনেরপানি স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ বছরের কম বয়সী ঝুঁকিপূর্ণ শিশু এবং তাদের পরিবারের পুষ্টিগত অবস্থা, স্বাস্থ্যগত সহনশীলতা ও সার্বিক কল্যাণের উন্নয়ন সাধনই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।প্রকল্পের আওতায় পুষ্টি, জীবিকায়ন এবং ওয়াশ খাতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ম্যাস MUAC স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে তীব্র অপুষ্টি ও মাঝারি তীব্র অপুষ্টির শিকার শিশু শনাক্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ২৮,৮৭৩ জন শিশুর স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে লামায় রয়েছে ৯,৪১২ জন। এছাড়া তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত পরিবারের জন্য চিকিৎসা গ্রহণে যাতায়াত ব্যয় বাবদ এককালীন সহায়তা প্রদান, মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক ও রান্না প্রদর্শনী সেশন পরিচালিত হচ্ছে। পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত পরিবারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে তিন মাস এবং মাঝারি অপুষ্টি আক্রান্ত পরিবারকে প্রতি মাসে এক হাজার আটশ টাকা করে দুই মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপকারভোগীদের আয়বর্ধক কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষণ ও শর্তসাপেক্ষ নগদ সহায়তা হিসেবে দশ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ১,২২৪ জন উপকারভোগীকে ফুড বাস্কেট সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর বাইরে নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণ বা মেরামত, পানি উৎস রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন এবং সংরক্ষিত তহবিল প্রদানের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।আরও পড়ুন, মেহেরপুরের গ্রামে মিলল ৯৬ স্থলমাইন, নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রকল্পের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ সোলায়মান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাকিলা আক্তার, সমাজসেবা কর্মকর্তা তানবীর হাসান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রবোজ বড়ুয়া, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের স্পেশালিস্ট বাফ্রুমং মার্মা। এছাড়া প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর জামিলা আক্তার ও হাজরাম ত্রিপুরা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় মৌজা হেডম্যানগণ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত