প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
মিঠাপুকুরে শিক্ষকের বেধড়ক মারধরে শিক্ষার্থীর হাত ভাঙার অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে
মোত্তাছিন বিল্লাহ ||
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সেরুডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এক সহকারী শিক্ষকের মারধরে এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে (ফ্র্যাকচার) যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়জুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নূর আলম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এক শিক্ষার্থীর হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। এক্স-রে রিপোর্টে তার হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক নামমাত্র দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোববার বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধানের আশ্বাস দেন।আরও পড়ুন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম উপমন্ত্রী পদমর্যাদা লাভ করেছেনসরেজমিনে ওই শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণে তারা দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কিত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, সামান্য বিষয়েও শারীরিক নির্যাতন করেন এবং অনেক সময় পাঠদানের পরিবর্তে মোবাইল ফোনে টিকটক ও রিলস দেখতে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া, সাম্প্রতিক অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন বলেও দাবি তাদের।আহত শিক্ষার্থীর চাচা মাহাবুল ইসলাম বলেন, “স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর আমার ভাতিজার চলাফেরা অস্বাভাবিক মনে হয়। পরে জানতে পারি শিক্ষক নূর আলম তাকে ও আরও কয়েকজনকে মারধর করেছেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করলে তার হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।আরও পড়ুন, এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক একজন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী এবং তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে বলে দাবি করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নূর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা বলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে কল কেটে দেন। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত