প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
অভিযানে পুলিশের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, গুরুতর আহত দুই এসআই
এম মিজানুর রহমান ||
চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। অভিযানের সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলায় দুই উপপরিদর্শক (এসআই)সহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবশেষে ১৫ মামলার আসামি ও আলোচিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলশী আমবাগান রেললাইনসংলগ্ন তরুণ সংঘ মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন দেওয়ানহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল ও আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি দল। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মাদক কারবারি আলমগীরকে আটক করা।অভিযানের একপর্যায়ে আলমগীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত একদল কিশোর গ্যাং সদস্য পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ইট-পাটকেল ছুড়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এতে দুই এসআইসহ মোট সাতজন সদস্য আহত হন।পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে খুলশী ঝর্ণাপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেআরও পড়ুন, প্রতারণার মামলায় সাবেক পরিচালক আহমেদ জোবায়েরের জামিন নামঞ্জুর সে একাধিক কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে এবং এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আধিপত্য বজায় রাখে। অস্ত্রের মহড়া, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, আলমগীরের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।হামলার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আলমগীরের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার মা রেনু বেগম ও ভাই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে রাত ১১টার দিকে পরিচালিত পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে প্রধান অভিযুক্ত আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত