প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় নববধূকে তালাক, বিচারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির সামনে স্ত্রীর অবস্থান
মোঃ মাসুম রেজা ||
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের বরন গ্রামে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এক নববধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ওই নারী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২৬) বিকেলে দিবাকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিনুর রহমানের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার। শাহিনুর রহমান মৃত আশরাফ আলী মাস্টারের ছেলে।মাহমুদা আক্তারের অভিযোগ, পারিবারিকভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। কিছুদিন আগে তার স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। পরে ডাকযোগে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো একটি তালাকনামা তার কাছে পৌঁছায়। তবে তালাকের কারণ সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তালাকের কারণ জানতে এবং সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান নেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাহিনুর রহমানের প্রথম স্ত্রী দুই সন্তান রেখে মারা যান। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সেই স্ত্রীকেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তালাক দেন। আরও পড়ুন, আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিনমাহমুদা বলেন, তার আগের বিয়ে ও একটি সন্তান থাকার বিষয়টি জেনেশুনেই শাহিনুর তাকে বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার স্বর্ণালংকার, জামাকাপড়সহ ব্যক্তিগত মালামাল স্বামীর বাড়িতে রয়েছে।মাহমুদার মা চানতারা খাতুন ও ছোট ভাই ইমরান হোসেন তৌহিদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা নারীদের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।অভিযোগের বিষয়ে শাহিনুর রহমানের সঙ্গে ঘটনাস্থলে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না হলেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের বনিবনা হচ্ছিল না। তাই আদালতের মাধ্যমে তালাক দিয়েছি।”এ ঘটনায় শিক্ষক শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাহমুদা আক্তার উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত