প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ঈশ্বরদীতে মাদক সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার ১০৩, তবুও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক
মোঃ মাহফুজুর রহমান ||
ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাব ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে গত তিন মাসের ও অধিক সময় ধরে ঈশ্বরদীতে মাদক সেবক ও কারবারীর অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে ১০৩ জন। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর পাবনা (খ) সার্কেল সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল ২০২৬ থেকে জুলাইয়ের ২০ তারিখ পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে মাদক সম্পৃক্ততায় ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ১৩ জন এবং ৯০ জন মাদক সেবী রয়েছে।সূত্র আরও জানায়, অভিযান কালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১১ কেজি গাজা, ৫২৯ পিচ ইয়াবা, ৫০ গ্রাম হেরোইন, ১৯৫ পিচ টাপেন্টাডল, ১৪ লিটার চোলাইমদ ও ১০০০ (এক হাজার) লিটার ওয়াশ বা তারি উদ্ধার করা হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈশ্বরদী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এমন কারবারির সংখ্যা ৮৫ জন। এর বাইরেও ছোট বড় মিলিয়ে কয়েকশত মাদক ব্যবসায়ী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুরো উপজেলা মিলিয়ে। যাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলস্রুতিতে অনেক কারবারীকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। আরও পড়ুন, দিনাজপুরে করতোয়ার তাণ্ডব, নদীভাঙনে ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পঈশ্বরদী মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ইসমাঈল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক নেতা আর প্রশাসন চাইলেই সমাজ থেকে মাদক দুর করা সম্ভব। কেননা সমাজের সর্বোস্তরের মানুষ রাজনৈকিত নেতাদের কথা শোনে । তাদের অনুসরণ করে। পক্ষান্তরে পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগ সাজোশে মাদক কারবারীরা তাদের অবৈধ এই ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, ঈশ্বরদীতে মাদক কারবারীদের গ্রেফতার নিয়ে সাধারণ জনগনের সাথে প্রসাশনের প্রতারনা চলছে। কেননা ঈশ্বরদীর মাদকের আখড়া খ্যাত ফতেমোহাম্মদপুর, আমবাগান, দরিনারিচা, মেথরপাড়াসহ যেসব স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলছে সেখানে তাদের কোন অভিযান নেই। কোন গ্রেফতার তৎপরতা নেই। তারা যাদের ধরছে তারা নিতান্তই দুধের শিশু। শিশুদের ধরে প্রচার করা হচ্ছে যে কারনে অধরাই থেকে যাচ্ছে মাদকের গড ফাদাররা। আরও পড়ুন, বিশ্বকাপ ঘিরে সংঘর্ষ: ফতুল্লায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, বিস্ফোরণ, আহত ৮মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর পাবনা (খ) সার্কেলের ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, ঈশ্বরদীর পৌর শহরের দরিনারীচায় সরকার অনুমোদিত একটি মদের দোকান রয়েছে। সেখানে লাইসেন্স ধারীরাই যায়। এছাড়া রেলওয়ে কলোনীতে (মেথর পট্টি) আমরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে মাদক উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক নির্মূল করতে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে সেটার অনেক অভাব রয়েছে। তবে মাদক নির্মূল করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী এমন একটা শহর যেখানে নদী, সড়ক ও রেলপথের ট্রানজিট সুবিধা সর্বোচ্চ। এছাড়া এখানে একাধিক লাইসেন্সকৃত মদের বার রয়েছে। যেখানে বিদেশীদের পাশাপাশি অনেক দেশী নাগরিক মাদকের সুবিধা ভোগ করছে। এছাড়া উপজেলায় ছড়ানো আশ্রয়ন প্রকল্প গুলোও মাদকের অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। এদের সামাজিক ভাবে প্রতিহত করতে পারলেই কেবল ঈশ্বরদী থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমরা চিন্হিত অনেক মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছি। তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় এসে আবার মাদকের কারবার করে। আসলে এসকল কারবারীকে প্রতিহত করতে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। তবে আমরা মাদককে সমাজ থেকে চিরতরে উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত