প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
শরীয়তপুরে রাজিব চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
মেহিদিল হাসান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: ||
শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মডেল থানাধীন গঙ্গানগর বাজারে এক ব্যবসায়ীর দোকান ঘর জোরপূর্বক দখল, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।এই ঘটনায় শোলপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ কামরুজ্জামান হাওলাদার।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গঙ্গানগর বাজারে 'মেসার্স নাহিদ স্যানিটারি এন্ড ইলেকট্রিক মার্ট' নামের ওই দোকানে দীর্ঘদিন ধরেই মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করছিল বিবাদীরা। স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবারের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা অমান্য করে ভুক্তভোগীর কাছে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, গত ২৫শে জুন রাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় দোকান থেকে ২২টি মিটার, ৩০টি ফ্যানসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৬শে জুন বিকেলে দোকানের ভেতরে জোরপূর্বক দেওয়াল নির্মাণ করে ঘরটি পুরোপুরি দখলে নেয় অভিযুক্তরা।এদিকে ঘটনার পরই সাংবাদিকদের হাতে আসে ব্যবসায়ী কামরুলকে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ। সেখানে শুনা যায়,আরও পড়ুন, ৮ মাসের শিশুকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ, আটক মা অভিযুক্ত রাজিব চৌধুরী ব্যবসায়ী কামরুলকে ১৪ লক্ষ টাকা না দিয়ে জমিতে পা না ফেলার জন্য সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন।এজাহারের নথিভুক্ত বিবাদী রাজিব চৌধুরী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান:"আমার বড় ভাই মাদক সেবনের সাথে জড়িত থাকায় ১০ বছর আগে আমার ভাইকে টাকার লোভ দেখিয়ে দোকান ঘরটি কিনে নেয় ওই দোকানের তৎকালীন ভাড়াটিয়া কামরুল। তবে সে সময় রাস্তা থেকে ১২ ফুট জায়গা রেখে বিক্রি করা হয়েছিল। এখন আমরা সেই ১২ ফুট জায়গা দাবি করছি।"হুমকির অডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীব চৌধুরী দাবি করেন, তিনি কোনো চাঁদা চাননি, বরং গত ১০ বছরের দোকান ভাড়া দাবি করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে সবকিছু অবগত থাকার পরেও গঙ্গানগর বাজার কমিটির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উদাসীন ও দায়সারা। কমিটির এমন নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।১০ বছর ধরে সচল থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান হাওলাদার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তার দোকান ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে পালং মডেল থানার অফিস্যার ইনচার্য মোঃ শাহ আলম জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত