প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
পোশাক খাতে গভীর সংকট: বন্ধ হচ্ছে কারখানা, বাড়ছে কর্মহীনতা
সংবাদ দিগন্ত ||
দেশের তৈরি পোশাক খাতে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় কারখানা বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আর্থিক সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি আরও গভীর হচ্ছে।গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা জানতে পারেন, কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের চাকরি হারাতে হয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।আরও পড়ুন,খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, গ্যাস–বিদ্যুৎ ও ডলারের সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিই এই সংকটের মূল কারণ।বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছরেই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শতাধিক কারখানা কার্যক্রম বন্ধ করেছে।শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করছে, কিন্তু শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও খাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ যেহেতু পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত