প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা
সংবাদ দিগন্ত: ||
রাজধানীর অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলশান ও বনানী দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং আবাসিক কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে গুলশান থানা পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুলশান থানার কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রচারিত হলেও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অপপ্রচারের অংশ বলে দাবি করেছেন।আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ঢাকা, অফিসফেরত মানুষের চরম ভোগান্তিস্থানীয় সূত্র ও একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাসে গুলশান ও বনানী এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিভিন্ন স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউস ও সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। এসব অভিযানের ফলে অনেক অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।এমন পরিস্থিতিতে গত ২১ শে জুন দৈনিক ইনক্লাবসহ বেশ কয়েকটি অনলাইনে গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মিজানুর রহমান এবং ফাঁড়ি ইনচার্জ সালমানের বিরুদ্ধে অবৈধ স্পা ব্যবসা থেকে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রতিবেদনটিতে দুইজন সাধারন ব্যবসায়ীকে জড়িয়ে মাসোহারা নিয়ে প্রচার করা হয়েছে। যাহা ভিক্তিহীন।ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সহজেই বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিকৃত অডিও কিংবা মনগড়া কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব। তিনি দাবি করেন, অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং থানার অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।আরও পড়ুন: অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে হোটেল সবুজ বাংলা!তিনি আরও বলেন, “আমি আমার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাতে পারে। যদি কারও কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ থাকে, তাহলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।”এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টাও উদ্বেগজনক।স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও সচেতন মহলের কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান ও বনানী এলাকায় পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে অনেক অবৈধ কার্যক্রম কমে এসেছে। তাদের মতে, যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারাই প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে থাকতে পারে।আরও পড়ুন: গুলশানে স্পা নেটওয়ার্কের নেপথ্যে কে এই নুর-ইসলাম?বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে অভিযোগ উত্থাপনের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি অভিযোগের সত্যতা যাচাইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা উচিত নয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা প্রতিহিংসাবশত অপপ্রচার চালানো হলে তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।আরও পড়ুন: গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীনসংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তাদের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে সত্য উদঘাটন এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত