প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
হাতির আবাসস্থলে নির্মাণকাজ, প্রশ্নে পরিবেশ সুরক্ষা
সংবাদ দিগন্ত ||
কক্সবাজারের টেকনাফে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে বন্যহাতির চলাচলের করিডোরে স্থায়ী ইটের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, এ নির্মাণকাজ বনের জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।বন বিভাগ জানিয়েছে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ২৬ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পেছনে সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে প্রায় ৫ মিটার উঁচু এবং ১৩৭ মিটার দীর্ঘ একটি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে বনের ভেতরে চলা এ নির্মাণকাজের কারণে গাছপালা অপসারণ করা হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে বন্যহাতি, বানর, শিয়াল, সরীসৃপ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পরিবেশকর্মীরা বলছেন, শালবাগান বন বন্যহাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচল আরো পড়ুন , বৃষ্টি এলেই ভিজে যায় বিছানা, অন্ধকার ঘরে দিন কাটে বিধবা হালিমারকরিডোর। সেখানে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ হলে হাতির চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে লোকালয়ে হাতির প্রবেশ বাড়তে পারে এবং মানুষ-হাতি সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।জানা গেছে, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণের অংশ হিসেবে এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।তবে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এ কাজের জন্য বন বিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে বনাঞ্চলের মধ্যে দেয়াল নির্মাণ আদর্শ সমাধান নয় বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত