প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
গুলশান পুলিশকে বিতর্কিত করতেই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
সংবাদ দিগন্ত: ||
সম্প্রতি একটি ভূঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমে রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকার বিভিন্ন স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে অনলাইনটির নেই কোন অনুমোদন। প্রতিবেদনে গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মিজানুর রহমানসহ পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাসোহারা গ্রহণ, অবৈধ ব্যবসায় প্রশ্রয় এবং বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার দাবি করা হলেও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অপপ্রচারমূলক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা সহ আরো অনেকে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মিজানুর রহমান বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তার দাবি, ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছে।আরো পড়ুন: আলোচনা, সমালোচনা আর দায়িত্বের গল্প: ওসি দাউদতিনি বলেন, “বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ছবি, অডিও, ভিডিও এমনকি কথোপকথনের স্ক্রিনশটও তৈরি করা সম্ভব। তাই কোনো স্ক্রিনশট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন দেখিয়ে কাউকে দোষী প্রমাণ করা যায় না। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবসময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছেন। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু গোষ্ঠী পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেটি অবশ্যই তদন্ত হতে পারে। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।আরো পড়ুন: ডিএমপির কয়েকটি থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারণে আলোচনায় থাকে। সময় সময় বিভিন্ন স্পা সেন্টার, গেস্ট হাউস ও বিনোদনকেন্দ্রকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অভিযান পরিচালনা করে। তবে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করা আইন ও ন্যায়বিচারের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন আইন বিশ্লেষকরা।প্রতিবেদনে যে সব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তার অধিকাংশই যাচাইবিহীন এবং অনুমাননির্ভর। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে কিছু স্ক্রিনশট ও কথিত তথ্যের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্য কোথা থেকে এসেছে, সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে কি না কিংবা কোনো তদন্তকারী সংস্থা সত্যতা পেয়েছে কি না এসব বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।আরো পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদতিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে এবং পুলিশের কিছু কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব তথ্য ছড়াচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।প্রকাশিত প্রতিবেদনে কথিতভাবে যেসব আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, যে ধরনের অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই। কেবল কারও বক্তব্য বা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তাহলে তা তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া উচিত।এদিকে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনও অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পুলিশ কোনো অপরাধ বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয় না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে অভিযোগেরও একটি গ্রহণযোগ্যতা ও তথ্যভিত্তিক ভিত্তি থাকতে হবে। আরো পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপিপ্রকাশিত প্রতিবেদনের পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, কথিত জাফর নামের একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে আমার ধারণা। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি কোনো ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হোক। আমি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই আমাকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এধরনের ভিক্তিহীন তথ্য ও গুজব ছড়ানো ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরী। তানহলে ভবিষতে তিনি আরো পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হয়রানী করার চেষ্টা চালিয়ে আসবে ও তাদের তাদের দ্বায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে। জানা গেছে, উক্ত ব্যক্তি আ.লীগের দোষর এবং তার বিরুদ্ধে অপরাধের যথেষ্ট প্রমানাদি রয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এ অবস্থায় যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা জরুরি।আরো পড়ুন: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রচারের গতি বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় যাচাইবিহীন তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।বিশ্লেষকদের মতে, কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্তের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।আরো পড়ুন: দৃষ্টান্তমূলক সেবায় আইজি ব্যাজ পেলেন ওসি হাফিজুর রহমানসর্বশেষে গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মিজানুর রহমান বলেন, “আমি সবসময় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য যে কোনো নিরপেক্ষ তদন্তকে আমি স্বাগত জানাই।অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যপ্রমাণের যথাযথ যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা। তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা কতটুকু এবং কার দাবি কতটা সত্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত