প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ!
মোঃ শরীফুল ইসলাম,, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ||
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম এ মান্নান। এমপি হওয়ার পর থেকেই সভাপতি এডভোকেট এম এম মান্নান ও সাধারন সম্পাদক নাজমুল করিমকে একই মঞ্চে কোন প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম এম মান্নান অনুমোদনের সুপারিশ করে স্বাক্ষর দেওয়ার পরও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম স্বাক্ষর দিচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে।এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সভাপতির মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সভাপতির পদে মাহাবুব রহমানকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের দিকে জুতা হাতে তেড়ে যান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুব রহমান।আরও পড়ুন, টিটিসিতে নারী প্রশিক্ষণার্থীকে হয়রানির অভিযোগে এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বির বহিষ্কারদীর্ঘদিন পদবঞ্চিত থাকা এবং কমিটি অনুমোদনের বিনিময়ে অর্থ দাবির অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের দিকে জুতা হাতে তেড়ে যান মাহবুব। এ ঘটনার একটি ভিডিও রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিন উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে বাড়ী ফেরার পথে সাহারপাড় মোড়ে পথরোধ করে এ ঘটনা ঘটানো হয়।প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুব রহমানের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের কথা কাটাকাটি হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাজমুল করিম মাহাবুব রহমানকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহাবুব রহমান নিজের পা থেকে জুতা খুলে নাজমুল করিমের দিকে তেড়ে যান। উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।আরও পড়ুন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানদলীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ওই পদে মাহাবুব রহমানকে স্থলাভিষিক্ত করার সুপারিশ করেন। তবে দীর্ঘ এক বছর পার হলেও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম কমিটি অনুমোদন দেননি।উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিধি মোতাবেক কমিটি উপস্থাপন না করায় আমি কমিটি অনুমোদন দিতে পারি না,বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির মৃত্যুতে সহসভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবে এটাই নিয়ম কিন্তু মাহাবুব সভাপতি হয় কি করে সে এই কমিটির কোন সদস্যও না।মাহবুবুকে সভাপতি এমপি সাহেব করতে চাইলেতো ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলন করতে হবে। "আরও পড়ুন, রাজবাড়ীতে ভূমি অফিসের চোরাই মাল মিলল চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাঙারির দোকানেনাজমুল করিম আরও বলেন, এ ঘটনায় মাহাবুব জড়িত এবং তার কাছে কোনো প্রকার টাকা-পয়সা দাবি করা হয়নি। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রত্যাশী মাহাবুব বলেন, একবছর যাবৎ আমি উপজেলা বিএনপির সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের স্বাক্ষরের জন্য পিছনে ঘুরছি তিনি টালবাহানা করছেন এজন্য গতকাল এই ঘটনা ঘটেছে, তবে মাহবুব ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান কমিটির কোন সদস্যও, সদস্য না হয়ে সভাপতি হওয়ার যুক্তিতা জানতে চাইলে তিনি বলেন নাজমুল করিম ভাইও আমাকে আগে এই নিয়মের কথা বলেন নাই আমারও জানা ছিল না।আরও পড়ুন, কসবায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ ভূইয়া বলেন আমার উপস্থিতিতে মাহবুব দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ করেছে যা গ্রহণযোগ্য নয় আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আর মাহাবুব ইউনিয়ন বিএনপি'র কোন সদস্য না হয়েও সভাপতি হওয়ার কোন গঠনতান্ত্রিক নিয়ম আছে বলে আমি মনে করি না, আমি এ বিষয়ে জেলা বিএনপি'র দৃষ্টি কামনা করছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত