প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
নরসিংদীতে ১২০০ কেজি ওজনের ‘কালা মানিক’ কিনলেই ফ্রি খাসি
আশরাফুল ইসলাম সবুজ, , নরসিংদী প্রতিনিধি: ||
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দড়ি হাইরমারা এলাকায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির গরু ‘কালা মানিক’। প্রায় ১২০০ কেজি ওজনের এই গরুটি কিনলেই ক্রেতাকে একটি খাসি সম্পূর্ণ ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গ্রীন এগ্রো ফার্ম। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা গ্রীন এগ্রো ফার্মে বর্তমানে প্রায় ২০০টি গরু রয়েছে। তবে সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ফ্রিজিয়ান জাতের ‘কালা মানিক’। খামার মালিক আহসান শিকদার জানান, তিন বছর আগে একটি হাট থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কেনা হয়। বর্তমানে এর ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০০ কেজি। তার দাবি, নরসিংদীর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় গরু।আরও পড়ুন, নরসিংদীতে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো ঢাকা বি.এফ শাহিন কলেজের ছাত্র মাহিকেকুচকুচে কালো রঙের গরুটির কপালে রয়েছে সাদা টিকলি। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় যে কেউ সহজেই কাছে গিয়ে আদর করতে পারে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় করছেন খামারে। খামার সূত্রে জানা যায়, কালা মানিককে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। এর খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, সাইলেজ, ভুট্টার গুঁড়া এবং ২৫ ধরনের মিশ্র উপাদানে তৈরি বিশেষ খাবার। সকালে ঘুম থেকে উঠে দানাদার খাবার, ঘাস ও পানি খায়। দুপুরেও দেওয়া হয় দানাদার খাবার ও কাঁচা ঘাস। রাতে খড় ও পানি খাওয়ানো হয়। এছাড়া প্রতিদিন দুই বেলা গোসল করানো হয় গরুটিকে।আরও পড়ুন, বগুড়া শিবগঞ্জে ১৫শ' পিস ট্যাপেন্টাডলসহ তালিকাভূক্ত মাদক কারবারী হযরত গ্রেফতারপ্রায় ১০ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট উচ্চতার কালা মানিককে তিন বছর ধরে লালন-পালন করছেন খামারের কর্মচারী কালাম। তিনি বলেন, মানিক আমার চোখের ভাষা বুঝে। আমি যা বলি সে শুনে। তাকে সকাল-দুপুর-রাতে নিজ হাতে খাবার দিই। দুই বেলা গোসল করাই। এতদিন ধরে লালন-পালন করেছি, এখন ভাবতেই কষ্ট লাগে যে সে চলে যাবে।গ্রীন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার বলেন, আমরা গরুটির নাম রেখেছি ‘মানিক’। সবাই আদর করে ‘কালা মানিক’ বলে ডাকে। তার ওজন প্রায় ১২০০ কেজি। দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। আর যে ক্রেতা গরুটি কিনবেন তাকে আমরা একটি খাসি সম্পূর্ণ ফ্রি উপহার দেবো। ঢাকার কোনো খামারে থাকলে এই গরুর দাম ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হতো। আমরা তুলনামূলক কম দাম রেখেছি। তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, কালীগঞ্জে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ‘রাতভর ধর্ষণ’, অভিযুক্ত স্বামীর বন্ধুমাধবদী থেকে গরুটি দেখতে আসা রহিম মিয়া বলেন, মোবাইলে দেখে যত বড় মনে হয়েছিল, সামনে এসে দেখি তার থেকেও বড়। খুব শান্ত স্বভাবের গরু। মাথায় হাত দিতেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রীন এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরুগুলো দেখেছি। ‘কালা মানিক’ সত্যিই বড় আকৃতির একটি গরু। এ বছর নরসিংদী জেলায় কোরবানির জন্য ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত